ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। সম্ভাব্য এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি পুনর্দখল করে লোহিত সাগরের নৌ চলাচল নিরাপদ করা। ২ অক্টোবর, শুক্রবার সংশ্লিষ্ট ছয়জনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য অভিযানটি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শুরু হতে পারে। স্থলযুদ্ধে মূল ভূমিকা রাখবে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী। তাদের সহায়তায় সৌদি বিমান হামলা চালাবে এবং রিয়াদ পুরো অভিযান তদারক করবে। অভিযানের পরিধি নিয়ে দুটি বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে। একটি পরিকল্পনায় বাব আল-মান্দেব ও এর আশপাশের এলাকায় সীমিত অভিযান চালানোর কথা রয়েছে। অন্যটি আরও বড় পরিসরের, যেখানে আল-বাইদা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফসহ ইয়েমেনের একাধিক এলাকায় সমন্বিত হামলা চালানো হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা এতে মোতায়েন হতে পারে।
রয়টার্সের সূত্র জানিয়েছে, অ্যামেরিকা সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা দিচ্ছে। তবে অ্যামেরিকান সেনাবাহিনী সরাসরি যুদ্ধের অংশ নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে না। তবে তুরস্ক ও পাকিস্তান সামরিক সরঞ্জাম ও পরামর্শক দিয়ে সহায়তা করছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় পাকিস্তান ইতোমধ্যে সেনা মোতায়েন করেছে বলে একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ফ্রান্সও ইয়ানবু বন্দর রক্ষায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
হুথিরা গত মাসে উপকূল বরাবর অগ্রসর হয়ে বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে সৌদি কর্মকর্তারা মনে করছেন। প্রণালিটি ভূমধ্যসাগর ও এশিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ। হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে। তবে ইয়েমেনের বিভিন্ন হুথিবিরোধী বাহিনীর মধ্যে বিভাজন রয়েছে। ফলে সম্ভাব্য অভিযানের সাফল্য অনেকাংশে স্থানীয় স্থলবাহিনীর সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।