ফেসবুকে করা কমেন্টের জেরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শ্রীলঙ্কার এক প্রবাসী কর্মীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হলেও তা বাতিল করেছে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট। ২৭ বছর বয়সী আনোজান শিভারাসাকে গত সেপ্টেম্বরে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সৌদি আরবের সর্বোচ্চ আদালত ওই সাজা বাতিল করেছে বলে জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী অরুণ হেমচন্দ্র। এ ঘটনায় শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল এবং তাঁর প্রাণভিক্ষার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হয়। খবর বিবিসির।
শ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী অরুণ হেমচন্দ্র ফেসবুক পোস্টে শিভারাসার মৃত্যুদণ্ড বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এদিকে, মামলার আইনি আলোচনায় যুক্ত শ্রীলঙ্কার আইনপ্রণেতা ফাইজার মুস্তাফা বিবিসি সিংহলকে জানান, সৌদি সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ রায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
জানা যায়, গত জুনের শেষ দিকে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এ সময় হিন্দু দেবতা সম্পর্কে অবমাননাকর কমেন্টের জবাবে শিভারাসা তামিল ভাষায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর কমেন্ট করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তিনি কমেন্টটি মুছে ক্ষমা চেয়ে ভিডিও প্রকাশ করলেও স্ক্রিনশট সৌদি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর জুলাইয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রথমে সৌদি আরবের আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হয়। পরবর্তী সময়ে একটি আপিল আদালত ইসলাম ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
মৃত্যুদণ্ড বাতিল হলেও শিভারাসার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলবে কি না, তিনি কারাগারে থাকবেন কি না কিংবা থাকলে কত দিন আটক থাকবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে তারা তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেনি।
এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও শিভারাসার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার আহ্বান জানিয়েছিল। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সৌদি আরববিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক জোয়ি শিয়া মঙ্গলবার বলেন, বক্তব্য বা কমেন্টসংক্রান্ত অপরাধে কঠোর সাজা দিতে সৌদি কর্তৃপক্ষের এ ধরনের আইন প্রয়োগ বন্ধ করা উচিত।
মৃত্যুদণ্ড বাতিলের খবর শিভারাসার পরিবার ও শ্রীলঙ্কায় স্বস্তি তৈরি করতে পারে। তবে তাঁর বর্তমান আইনি অবস্থান এবং মুক্তির সম্ভাবনা সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।