সৌদি আরব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করেনি- সম্প্রতি এমন একটি তথ্য অ্যামেরিকার গোপন গোয়েন্দা মূল্যায়নে উঠে এসেছে।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গালফ নিউজ জানিয়েছে , গত মাসে কংগ্রেসে পাঠানো গোপন নথিতে এই মূল্যায়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
এ তথ্য এমন সময় সামনে এলো, যখন সৌদি আরবের সঙ্গে অ্যামেরিকার বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে কংগ্রেসে পর্যালোচনা চলছে।
চুক্তিটি কার্যকর হলে সৌদি আরবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে অ্যামেরিকান কোম্পানিগুলো কয়েক হাজার কোটি ডলারের কাজের সুযোগ পাবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, এই সহযোগিতা সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করবে এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচিতে অ্যামেরিকাকে প্রভাব রাখার সুযোগ দিবে। একই সঙ্গে সৌদি আরব যাতে পারমাণবিক প্রযুক্তির জন্য রাশিয়া বা চীনের ওপর নির্ভর না করে, সেটিও চুক্তির একটি লক্ষ্য।
তবে চুক্তির প্রাথমিক শর্ত অনুযায়ী, সৌদি আরব ৫ শতাংশের নিচে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত পর্যালোচনা এবং পৃথক লিখিত চুক্তির মাধ্যমে এই সীমা ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ থাকতে পারে।
২০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাত্রায় সমৃদ্ধকরণ করা গেলে অস্ত্র তৈরির উপযোগী মাত্রায় পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় সময় ও প্রযুক্তিগত প্রচেষ্টা কমে যায়। প্রস্তাবিত চুক্তিতে সৌদি আরবের জন্য এই প্রোটোকল গ্রহণের বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়নি।
এর আগে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে সৌদি আরবেরও অস্ত্র তৈরি করা উচিত বলে একাধিকবার দাবি জানিয়েছে দেশটির সরকার। অন্যদিকে, ইরানের দাবি সৌদি আরবের কাছে ইতিমধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র আছে।