রাশিয়ার অস্ত্রশিল্পের খাতের সঙ্গে জড়িত প্রায় ১ হাজার ৬০০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর সোমবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইইউ। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ তৈরিতে জড়িত থাকার অভিযোগে সন্দেহভাজন ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ জানায়, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর একবারে এত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনা এটিই সবচেয়ে বড়।
এ ছাড়া ইউক্রেনের রুশ-অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে প্রহসনের নির্বাচন আয়োজন, পরিচালনা বা অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও ৭৭ জনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস বলেন, নতুন নিষেধাজ্ঞার অর্ধেকের বেশি রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়া প্রতিদিন ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করছে।
কালাস আরও বলেন, এখন মস্কোর ওপর চাপ কমানোর সময় নয়, বরং চাপ আরও বাড়াতে হবে।
ইইউ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাশিয়ার সরকার নিজেই দেশটির সামরিক-শিল্প খাতের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি ভর্তুকি পাওয়ার অধিকারী।
ইইউর তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা রাশিয়ার সামরিক ও শিল্প খাতকে সহায়তা করছেন। দেশটির সামরিক শিল্পের মূল সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করেই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম, যোগাযোগের যন্ত্রপাতি, রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থা, স্যাটেলাইট ও ক্ষেপণাস্ত্রের বিভিন্ন উপকরণ, বিস্ফোরক এবং গোলাবারুদ সরবরাহ করে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে রাশিয়ার যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইইউ ব্যবস্থা নিয়েছে, তাদের মোট সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে।
এই তালিকায় রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, তাকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে সন্দেহভাজন ধনকুবের, বহু আইনপ্রণেতা ও বিভিন্ন ব্যাংক।