প্রকাশিত: অক্টোবর ২৯ ২০২৬, ১৪:১৬ হালনাগাদ: অক্টোবর ২৯ ২০২৬, ১৪:২৪
২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি, নিজের মামলার প্রারম্ভিক বক্তব্যের জন্য ডাউনটাউন মিনিয়াপোলিসের ফেডারেল আদালতে পৌঁছাচ্ছেন 'ফিডিং আওয়ার ফিউচার' মামলার অন্যতম বিবাদী সাইদ সালিম (বামে)
0
৩৭ বছর বয়সী সালিম সাঈদ মিনিয়াপোলিসে সাফারি রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করতেন। শিশুদের খাবার সরবরাহের বিপরীতে সরকারি অর্থ পেতে প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি খাবার বিতরণের দাবি করেছিলেন তিনি। প্রসিকিউটরদের দাবি, এ জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ ডলারের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এর একটি অংশে তাঁর নিয়োগ করা অন্য ব্যক্তিরাও জড়িত ছিলেন।
মিনেসোটা স্টেটে কোভিড-১৯ মহামারির সময় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের খাবার সরবরাহের সরকারি কর্মসূচির অর্থ আত্মসাতের মামলায় সালিম সাঈদ নামে এক ব্যক্তিকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৮ অক্টোবর) মিনিয়াপোলিসের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক ন্যান্সি ব্রাসেল এ সাজা ঘোষণা করেন।
৩৭ বছর বয়সী সালিম সাঈদ মিনিয়াপোলিসে সাফারি রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করতেন। শিশুদের খাবার সরবরাহের বিপরীতে সরকারি অর্থ পেতে প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি খাবার বিতরণের দাবি করেছিলেন তিনি। প্রসিকিউটরদের দাবি, এ জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি প্রায় ৪৪ মিলিয়ন ডলারের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এর একটি অংশে তাঁর নিয়োগ করা অন্য ব্যক্তিরাও জড়িত ছিলেন।
সাজা ঘোষণার সময় বিচারক ন্যান্সি ব্রাসেল বলেন, করদাতাদের অর্থ আত্মসাৎ করে ব্যক্তিগত সম্পদ গড়ার পাশাপাশি সাঈদ মিনেসোটা স্টেটের সুনামও ক্ষুণ্ন করেছেন।
প্রতিদিন ৬ হাজার খাবার বিতরণের দাবি
প্রসিকিউটরদের দাখিল করা আদালতের নথি অনুযায়ী, সাঈদ প্রতিদিন ৬ হাজার খাবার বিতরণের দাবি করে সরকারি অর্থের আবেদন করতেন। অথচ এফবিআইয়ের নজরদারি ক্যামেরায় প্রতিদিন প্রায় ৪০ জনকে খাবার সংগ্রহ করতে দেখা যায়।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, টানা ২১ মাস ধরে সাঈদ হাজার হাজার ভুয়া রিইম্বার্সমেন্ট ক্লেইম জমা দেন। এসব আবেদনে যেসব শিশুর জন্য খাবার সরবরাহের কথা বলা হয়েছিল, তাদের পরিচয় ছিল কাল্পনিক।
সরকারের দাবি, আত্মসাতের অর্থ দিয়ে সাঈদ ১.২ মিলিয়ন ডলারের একটি বাড়ি, বাণিজ্যিক সম্পত্তি এবং ৮৭ হাজার ডলারের একটি পিকআপ ট্রাক কেনেন।
অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন সাঈদ
সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া সাঈদ ২০২৫ সালে বিচার চলাকালে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। সে সময় তাঁর দাবি ছিল, অনেক খাবার রেস্টুরেন্টের বাইরে সরবরাহ করা হয়েছিল।
তবে সাজা ঘোষণার সময় তিনি অনুশোচনা প্রকাশ করেন। তাঁর আইনজীবী ব্যারি জোন ১২ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন। একই সঙ্গে মামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সাঈদকে চিহ্নিত করার বিষয়ে সরকারের দাবির বিরোধিতা করেন তিনি।
একই মামলায় আরেক আসামির ৪২ বছরের সাজা
একই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন আরেক আসামি ‘ফিডিং আওয়ার ফিউচার’ নামের অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রধান অ্যাইমি বক
মিনেসোটার এই জালিয়াতির ঘটনায় কয়েক ডজন ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। সাঈদের সঙ্গে ২০২৫ সালে দোষী সাব্যস্ত হন ‘ফিডিং আওয়ার ফিউচার’ নামের অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রধান অ্যাইমি বক।
মামলার সামগ্রিক পরিকল্পনা তৈরির দায়ে বককে ৪২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে ২৪২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় আমেরিকার একটি ফেডারেল কর্মসূচির আওতায় স্কুলের বাইরেও শিশুদের খাবার সরবরাহের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
ট্রাম্পের সমালোচনার কেন্দ্রে মিনেসোটার জালিয়াতি
মিনেসোটার এই জালিয়াতির ঘটনা আমেরিকার জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘটনায় ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর টিম ওয়ালজের প্রশাসনের সমালোচনা করেছেন এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন।
স্টেট অডিটরদের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘ফিডিং আওয়ার ফিউচার’ নিয়ে মিনেসোটা শিক্ষা বিভাগ একাধিক অভিযোগ পেয়েছিল। তবে অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটিকে নিজেদের কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কর্মসূচিতে জালিয়াতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসন মিনেসোটার বড় শহরগুলোতে অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপ জোরদারের যুক্তিও তুলে ধরেছে। এ নিয়ে স্টেটটির রাজনীতি ও অভিবাসন নীতি ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।