অ্যামেরিকা হামলা চালালে যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি ইরানের
- 0


প্রকাশিত: মে ২০ ২০২৬, ১৫:০৪
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানে নতুন করে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন বলে দাবি করার পর বুধবার পাল্টা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ডস কোর বা আইআরজিসি বলেছে, অ্যামেরিকা আবার হামলা চালালে সংঘাত এবার শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পশ্চিম এশিয়ার বাইরে বিস্তৃত হবে।
ছয় সপ্তাহ আগে যুদ্ধবিরতির জন্য “অপারেশন এপিক ফিউরি” স্থগিত করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু এরপরও যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা এখন কার্যত স্থবির হয়ে আছে। চলতি সপ্তাহে ইরান নতুন একটি প্রস্তাব ওয়াশিংটনের কাছে পাঠিয়েছে। তবে তেহরানের প্রকাশিত শর্তগুলো আগেই ট্রাম্প প্রশাসন প্রত্যাখ্যান করেছিল। এর মধ্যে রয়েছে— হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং অঞ্চল থেকে অ্যামেরিকান সেনা প্রত্যাহারের দাবি।
হোয়াইট হাউযে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তিনি মঙ্গলবারই নতুন বোমা হামলার নির্দেশ দিতে যাচ্ছিলেন। তার ভাষায়, তিনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা দূরে ছিলেন।
এর জবাবে আইআরজিসি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে জানায়, “ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন আবার শুরু হলে প্রতিশ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধ এবার অঞ্চল ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু মধ্যপ্রাচ্যের অ্যামেরিকান ঘাঁটির বিরুদ্ধে নয়, বরং আরও দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধেও সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত।
এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তেহরানে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা। গত মাসে পাকিস্তানেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইরান ও অ্যামেরিকার একমাত্র শান্তি আলোচনা। এরপর থেকে ইসলামাবাদ দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ফেব্রুয়ারিতে অ্যামেরিকা-ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত নিজেদের জাহাজ ছাড়া অন্য সব জাহাজের চলাচল সীমিত করে দেয়। এতে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়।
পরে অ্যামেরিকা ইরানি বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করে। তেহরান এখন বলছে, যারা ইরানের শর্ত মেনে চলবে, কেবল তাদের জন্য ধীরে ধীরে প্রণালি খুলে দেওয়া হতে পারে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার প্রায় ৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেলবাহী চায়নার দুটি বিশাল ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। গত সপ্তাহে বেইজিং সফরের সময় ট্রাম্পের উপস্থিতিতেই চায়নার জাহাজ চলাচলে নিয়ম শিথিলের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল বলে জানিয়েছিল ইরান।
সাউথ কোরিয়াও জানিয়েছে, তাদের একটি তেলবাহী জাহাজ ইরানের সমন্বয়ে প্রণালি অতিক্রম করছে। শিপিং পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান লয়েডস লিস্ট জানিয়েছে, গত সপ্তাহে অন্তত ৫৪টি জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে। যদিও যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ এই পথে চলাচল করত।
এদিকে ভারতের পক্ষ থেকেও উপসাগরীয় অঞ্চলে খালি ট্যাংকার পাঠানোর পরিকল্পনার খবর এসেছে। যদিও ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো মূল লক্ষ্য হচ্ছে উপসাগরে আটকে থাকা জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনা।
যুদ্ধ বন্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন রাজনৈতিক চাপের মুখেও রয়েছেন। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি রিপাবলিকান পার্টির ওপর চাপ বাড়িয়েছে, বিশেষ করে নভেম্বরে কংগ্রেস নির্বাচন সামনে রেখে।
একদিকে ট্রাম্প নতুন হামলার হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে আবার বলছেন, শান্তি আলোচনা “খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে” এবং দ্রুত সমাধান হতে পারে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও দাবি করেছেন, আলোচনা “ভালো অবস্থানে” রয়েছে।
এই পরিবর্তনশীল অবস্থানের প্রভাব পড়ছে তেলের বাজারেও। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৮ ডলারে নেমেছে। তবে সামগ্রিক প্রবণতা এখনো ঊর্ধ্বমুখী।
