ইসরায়েলের জন্য ৮টি মুসলিম দেশের কাছে 'আব্রাহাম চুক্তি' স্বাক্ষরের উপহার চাইলেন ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প
- 0

প্রকাশিত: মে ২৫ ২০২৬, ১৬:০০ হালনাগাদ: মে ২৫ ২০২৬, ১৮:৩৬

ইরানে যুদ্ধ বন্ধের প্রতিদান হিসেবে ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপন করতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের ৭টি দেশকে আব্রাহাম চুক্তি স্বাক্ষর করতে আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
আব্রাহাম চুক্তি স্বাক্ষর করতে যে দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে তা হলো-সৌদি আরব, বাহারাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর ও জর্ডান।
প্রেসিডেন্টের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, শনিবার চুক্তিটি স্বাক্ষরের বিষয়ে দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেন ট্রাম্প।
ফোনালাপে প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি সম্পন্নের পর দেশগুলোর একযোগে চুক্তিটি স্বাক্ষর করা উচিত।
ওই সময় অ্যামেরিকা কর্তৃক সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিশ্চিত করার উপহার হিসেবে ইসরায়েলের সঙ্গে আব্রাহাম চুক্তির স্বাক্ষর চান ট্রাম্প।
সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের দেয়া এক পোস্টে সোমবার ট্রাম্প লিখেন, ‘ এক বা দুটি দেশের চুক্তি স্বাক্ষর না করার মতো কারণ থাকতে পারে এবং তা গ্রহণযোগ্য হবে, কিন্তু বেশিরভাগ দেশকেই চুক্তি স্বাক্ষরে ইচ্ছুক ও প্রস্তুত থাকা উচিত। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে এ ঘটনাকে (শান্তি চুক্তি) আরও ঐতিহাসিক রূপ দেওয়ার জন্য।’
ট্রাম্প দাবি করেন, ইতোমধ্যে চুক্তির আওতায় থাকা আরব আমিরাত, বাহারাইন, মরক্কো, সুদান, কাজাখাস্তান যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে দেশগুলো কখনও চুক্তি প্রত্যাহার কিংবা বিরতি নেওয়ার কথা বলেনি।
পোস্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, ‘সৌদি আরব ও কাতারের উচিত ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়তে অবিলম্বে আব্রাহাম চুক্তি স্বাক্ষর করা এবং অন্য দেশগুলোর উচিত হবে তাদের অনুসরণ করা।’
‘যদি তারা তা না করে, তবে তাদের ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির অংশ হওয়া উচিত নয়, কারণ এটি অসৎ উদ্দেশ্য প্রকাশ করে।’
আব্রাহাম চুক্তি কি?
আব্রাহাম অ্যাকর্ডস শান্তি চুক্তি হলো আরব বিশ্ব ও মুসলিম দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া একটি উদ্যোগ।
২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় প্রথম ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। প্রাথমিকভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইসরায়েলের সাথে এই চুক্তি করে। পরবর্তীতে সুদান ও মরক্কোও এই চুক্তিতে যোগ দেয়।
এ চুক্তির উদ্দেশ্য হলো ইসরায়েলের সঙ্গে দেশগুলোর অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, বিমান চলাচলসহ নিরাপদ ও বিশ্বস্ত সম্পর্ক স্থাপন করা।

