দীর্ঘদিন দুরারোগ্য ব্যাধির সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মেনেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ৮০ বছর বয়সী এ রাজনীতিকের জীবনাবসানে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক দীর্ঘ যাত্রার অবসান হলো।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মঙ্গলবার সকাল ছয়টায় খালেদা জিয়া শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
বিএনপির আইসিটিবিষয়ক সম্পাদক ও দলের অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্কের প্রধান একেএম ওয়াহিদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এ খবরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্থান-পতন, উত্তেজনা, আশা ও বৈরিতার নাটকীয় পালাবদলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন।
নিউমোনিয়া, দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের সংক্রমণ এবং জটিল হৃদযন্ত্রের সমস্যার বিরুদ্ধে অবিরাম লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে তার শেষ মাসগুলো কেটেছে। অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে গেলেও তার ঘনিষ্ঠজনরা স্মরণ করেন, যে দৃঢ়তা একসময় তার রাজনৈতিক জীবনের পরিচয় ছিল, শেষ সময়েও সেই দৃঢ়তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
সমর্থকদের কাছে তার মৃত্যু একটি যুগের অবসান; বিরোধী রাজনীতিকে দশকের পর দশক গড়ে তোলা এক মাতৃতুল্য নেত্রীর বেদনাদায়ক বিদায়। অন্যদের কাছে এটি এমন এক অধ্যায়ের শেষ, যার উত্তরাধিকার নিয়ে জনমনে চিরকাল একটি প্রশ্ন রয়ে যাবে। আর বাংলাদেশের জন্য খালেদা জিয়ার প্রস্থান রেখে গেল ইতিহাসের ভারে ভারাক্রান্ত এক গভীর নীরবতা।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া দিনাজপুর-৩, ফেনী-১ এবং বগুড়া-৭—এই তিনটি আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তার মৃত্যুতে সব লড়াইয়ের আগেই থেমে গেল সব।
বাংলাদেশ রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাল এই প্রস্থান। মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেলেন তার বড় ছেলে তারেক রহমান, তিন নাতনি এবং লাখো সমর্থক ও অনুরাগীকে। তবে দেশের রাজনীতিতে তিনি যে গভীর ছাপ রেখে গেলেন, তা অনাগত বহু প্রজন্মকে প্রভাবিত করবে।