রাশিয়া ২০২৭ সালে প্রতিরক্ষা খাতে ১৭.১ ট্রিলিয়ন রুবল বা ২০২.৫৮ বিলিয়ন ডলার, ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে। ২০২৬ সালের জন্য প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ করা ১৩.৫ ট্রিলিয়ন রুবলের তুলনায় এই ব্যয় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি এবং ২০২২ সালে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর প্রতিরক্ষা খাতে এটিই হবে সর্বোচ্চ ব্যয়। সোমবার সরকারি নথির বরাত দিয়ে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে রয়টার্স।
নথি অনুযায়ী, আগামী তিন বছরে রাশিয়ার মোট প্রতিরক্ষা ব্যয় হবে ৫০ ট্রিলিয়ন রুবল। ২০২৬ সালে প্রতিরক্ষা খাতে ১২.১ ট্রিলিয়ন রুবল ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল। তবে প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ গোপন রাখায় তা প্রকাশ করা হবে না। এ ছাড়া সামরিক খাতের কিছু ব্যয় বাজেটের অন্যান্য অংশেও হিসাব করা হতে পারে।
এদিকে ২০২৬ সালের বাজেট ঘাটতির পূর্বাভাসও বাড়িয়েছে রুশ সরকার। আগে মোট দেশজ উৎপাদনের ১.৬ শতাংশ ঘাটতির পূর্বাভাস থাকলেও এখন তা বাড়িয়ে ৩.২ শতাংশ করা হয়েছে। একই সময়ে ২০২৬ সালের মোট সরকারি ব্যয় ১৩.২ শতাংশ বেড়ে ৪৮.৬ ট্রিলিয়ন রুবলে দাঁড়াবে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের ২০.৯ শতাংশ।
রয়টার্সের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের অতিরিক্ত ঘাটতি মোকাবিলায় নতুন কর আরোপের পরিকল্পনাও রয়েছে। গত সপ্তাহে রাশিয়া ২০২৭ সালে নতুন করে কর বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ধাতু ও খনি কোম্পানির ওপর নতুন অতিরিক্ত মুনাফা কর থেকে বছরে প্রায় ২০০ বিলিয়ন রুবল রাজস্ব পাওয়ার আশা করছে সরকার।
২০২৬ সালে রাশিয়ার নিট ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনাও ২৬ শতাংশ বাড়িয়ে ৫ ট্রিলিয়ন রুবল করা হয়েছে। একই বছর ঘাটতি কমাতে দেশটির জাতীয় সম্পদ তহবিল থেকে ৪৫৯ বিলিয়ন রুবল, অর্থাৎ প্রায় ১১ শতাংশ, ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে ২০২৬ সালের তেল ও গ্যাস রাজস্বের পূর্বাভাস ৮.৯ ট্রিলিয়ন রুবল থেকে কমিয়ে ৭.৬ ট্রিলিয়ন রুবল করা হয়েছে।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৭ সালে রাশিয়ার সরকারি ঋণ জিডিপি’র ২১.৭ শতাংশে উঠতে পারে। ২০২৬ সালে এই হার ১৯.৯ শতাংশ। অর্থাৎ ২০২৭ সালে ঋণ সরকারের নির্ধারিত ২০ শতাংশের নিরাপদ সীমা ছাড়িয়ে যাবে। একই সময়ে ২০২৭ সালে মোট ঋণ গ্রহণ ৪৩ শতাংশ বেড়ে ৭.৭ ট্রিলিয়ন রুবলে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
রুশ সরকার আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে ২০২৭ সালের খসড়া বাজেট পার্লামেন্টে জমা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।