কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে আপাত বিরোধের মধ্যে পর্তুগালের জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ডেনমার্কের বিপক্ষে নেশন্স লিগের ম্যাচে তাকে শুরুর একাদশে রাখা হবে না—জেসুসের এমন ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর ৩০ সেপ্টেম্বর, বুধবার ক্যাম্প ছাড়েন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা। এতে পর্তুগালের হয়ে তার আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পর্তুগালের সর্বকালের সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলদাতা রোনালদো তার ক্যাম্প ছাড়ার কারণ বিস্তারিত জানাননি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, যথাসময়ে পর্তুগালের মানুষকে তার জাতীয় দল ছাড়ার কারণের সত্য জানাবেন।
পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তারা শুধু নিশ্চিত করেছে, রোনালদো ক্যাম্প ছেড়েছেন এবং বাকি দল ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবারের ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচে মনোযোগ রাখবে।
রোনালদোর বিদায়ে পর্তুগালে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তিনি জাতীয় দলের হয়ে আর খেলবেন কি না এবং দেশটির সংবাদমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে, এটিই কি জাতীয় দলের সঙ্গে রোনালদোর শেষ অধ্যায়।
ক্যাম্প ছাড়ার ঘটনায় রোনালদোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, যথাযথ কারণ ছাড়া জাতীয় দলের অনুশীলন, ম্যাচ বা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম ছেড়ে গেলে একজন খেলোয়াড়কে এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত নিষিদ্ধ এবং জরিমানা করা যেতে পারে। তবে রোনালদোর চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি বিধি অনুযায়ী যথাযথ কারণ হিসেবে বিবেচিত হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
রোনালদো জানিয়েছেন, কোচের সংবাদ সম্মেলনের পর এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসার সঙ্গে কথা বলার পর তিনি ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তিনি পর্তুগাল ও সতীর্থদের শুভকামনা জানান।
রোনালদো বর্তমানে ৯৭৯টি ক্যারিয়ার গোল করেছেন এবং ১ হাজার গোলের মাইলফল্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। পর্তুগালের হয়ে তার আন্তর্জাতিক গোল ১৪৬টি। তিনি সম্প্রতি বলেছেন, সৌদি প্রো লিগের চলতি মৌসুম সম্ভবত তার পেশাদার ক্যারিয়ারের শেষ মৌসুম হতে পারে।
জেসুস অবশ্য রোনালদোর সঙ্গে বিরোধের কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, রোনালদো তার সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। নরওয়ের বিপক্ষে আগের ম্যাচে রোনালদোকে দীর্ঘ সময় ওয়ার্মআপ করিয়েও মাঠে না নামানোকে নিজের ভুল বলেও স্বীকার করেছেন জেসুস।