Skip to main content

কলকাতায় কীভাবে কাটছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের দিন?

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২০ ২০২৫, ৬:৩৭ হালনাগাদ: এপ্রিল ৩ ২০২৬, ২:৩১

কলকাতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত। ছবি: দ্য প্রিন্ট

কলকাতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত। ছবি: দ্য প্রিন্ট

  • 0

প্রতি সপ্তাহে দলীয় সভা এবং ভারতের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করার জন্য দিল্লিতে ভ্রমণ করেন সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতন এবং ভারতে নির্বাসনের পর থেকে বাংলাদেশের সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতের নতুন শখ বা পুরনো রুটিনে ফিরে যাওয়ার সময় নাই। দলীয় কাজই এখন তাকে ব্যস্ত রাখছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টকে ফোনে দেয়া সাক্ষাৎকারে আরাফাত দাবি করেন,‘হাসিনা চলে যাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ অতল গহ্বরের নিমজ্জিত।’

৫১ বছর বয়সী এই সাবেক শিক্ষাবিদ বলেন, ‘আমার একটাই লক্ষ্য বাংলাদেশে আবার সবকিছু ঠিকঠাক করা। আমার এখন আসলে কোনও শখ নেই, খেলাধুলা করার সময় নেই, অথবা আমার জীবনে অন্য কোনও বিনোদনে নিজেকে ব্যস্ত রাখার সময় নেই।’

দিনরাত কাজ করেন বাংলাদেশের সাবেক এই মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমার ঘুমানোর জন্যও নির্দিষ্ট সময় থাকে না। মাঝে মাঝে, আমি ভোর এবং সন্ধ্যার মধ্যে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। দৈনন্দিন জীবন মানেই কাজ, কাজ এবং কাজ।’

তার এই কাজের মানে হচ্ছে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিকল্পনা করা এবং আওয়ামী লীগের মাঠকর্মী এবং নির্বাসিত সিনিয়র নেতাদের সাথে প্রতিদিন যোগাযোগ রাখা।

ছাত্র-নেতৃত্বাধীন কোটা-বিরোধী আন্দোলনের কারণে হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর থেকেই প্রায় ১,৩০০ জন সাবেক মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন যুবলীগ এবং এর ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের শীর্ষ ও মধ্যম পর্যায়ের নেতারা ভারত এবং বিশ্বের অন্যান্য স্থানে নির্বাসিত রয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের একজন সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যের মতে, আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদ এবং কর্মীরাই কেবল নির্বাসিত নন, বরং তাদের সাথে যোগ দিয়েছেন, সাংবাদিক, সুশীল সমাজকর্মী, সেনা কর্মকর্তা, আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা এবং কূটনীতিকরাও। সবাই ইউনূস প্রশাসনের প্রহসনের শিকার হয়ে বাংলাদেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি তার।

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, যদি তাদের গণনা করা হয় তবে সংখ্যাটি ২০০০ ছাড়িয়ে যাবে।

যারা ভারতে আছেন তারা বেশিরভাগই কলকাতার নিউ টাউনে অবস্থান করছেন। ভাড়ার জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের অ্যাপার্টমেন্টের সহজলভ্যতা, শপিং মল, ফিটনেস সেন্টার এবং নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের কাছাকাছি থাকার কারণে নিউ টাউন তাদের জন্য আদর্শ আবাসিক স্থান হয়ে উঠেছে।

পরিবারের সদস্যদের থেকে দূরে থাকা এসব আওয়ামী লীগ নেতাদের জীবন এক ধরণের প্যাটার্নে পরিণত হয়েছে- ফজরের নামাজ, জিম সেশন বা সকালের হাঁটা, বাংলাদেশ এবং বিশ্বজুড়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সাথে প্রতি সন্ধ্যায় অনলাইনে বৈঠক এবং দিন শেষে ফিরে আসার স্বপ্ন নিয়ে ঘুমাতে যান তারা।

তাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও। যাকে গত অক্টোবরে এই এলাকায় দেখা যায়।

নিউ টাউনে বসবাসকারী আওয়ামী লীগের একজন সাবেক সাংসদ দ্য প্রিন্টকে বলেন, তিনি নিয়মিত আসাদুজ্জামানের সাথে দেখা করেন। তার মতে, বাংলাদেশের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওই এলাকায় একটি বিশাল অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়েছেন।

সেখানে নিয়মিত তিনি তার সহকর্মী এবং নিউ টাউনের প্রতিবেশীদের সাথে দেখা করেন। নিউটনের ঐ অ্যাপার্টমেন্টে তিনি তার স্ত্রী এবং মেয়ের সাথে থাকেন এবং প্রতি সপ্তাহে দলীয় সভা এবং ভারতের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করার জন্য দিল্লিতে ভ্রমণ করেন।

সাবেক সাংসদের মতে, আসাদুজ্জামানকে দলের নেতা এবং সদস্যদের মনোবল বজায় রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ।

সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর অ্যাপার্টমেন্টে আসা দলীয় সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রতিদিনের বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে বিশ্রাম নিতে বা অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকতে আসিনি। আমরা এখানে বাঁচার জন্য এবং আগামীর লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে এসেছি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কক্সবাজারের একজন সাবেক আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বলেন,’ আমি ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে ঘুম থেকে উঠে অন্য একজন আওয়ামী লীগ সাংসদের সাথে আমার ৩বিএইচকে অ্যাপার্টমেন্টে ফজরের নামাজ পড়ি। তারপর আমরা দুজনেই পাড়ার ফিটনেস স্টুডিওতে যাই।

১,৫০০ বর্গফুটের এই অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া মাসে ৩০,০০০ টাকা, যা এমপির কাছে খুব বেশি বলে মনে হয়না।

দুপুরের খাবারের পর, সন্ধ্যাগুলো বাংলাদেশ, ভারত এবং অন্যান্য দেশের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে অনলাইনে বৈঠক করে কাটানো হয় নেতাদের। সদস্যরা তাদের নিজ নিজ দেশের রাজনৈতিক সংবাদ ভাগাভাগি করে বিশ্লেষণ করেন এবং তাদের পরবর্তী পদক্ষেপের পরিকল্পনা করেন।

সম্প্রতি, বাংলাদেশ আই প্রেস কলকাতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি 'পার্টি অফিস’ সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জানে। তবে কক্সবাজারের সাবেক সাংসদ এই প্রতিবেদনটি অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, নিউ টাউনে আমরা একটা জায়গা ভাড়া নিয়েছি যেখানে আমরা সবাই মিলিত হই। কলকাতায় প্রায় ১,৩০০ জন দলীয় নেতা আছেন। আমরা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বসার ঘরে মিলিত হতে পারি না! কিন্তু এটাকে অফিস বললে অতিরঞ্জিত বলা হবে।’

২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে নিউ টাউনের একটি ২বিএইচকে অ্যাপার্টমেন্টে একা বসবাসকারী আরেক সাংসদ অবসর সময়টা কাজে লাগিয়ে নিজের চুলের প্রতিস্থাপন করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে ,নতুন চুল গজানো ভালো লাগার মতো একটি বিষয়।’