ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অভিযোগে দণ্ডিত অ্যামেরিকান নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডকে (৭৪) বুধবার মুক্তি দিয়েছে রাশিয়া। আটকের প্রায় ৪ বছর পর রুশ সরকার হার্বার্ডের মুক্তি কার্যকর করল।
দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম আরআইএ নভোস্তির এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে তার মুক্তির তথ্য।
হাবার্ডের মুক্তির বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, পূর্ব ইউক্রেন থেকে গ্রেপ্তার হওয়া আমেরিকার এ নাগরিককে সেন্ট পিটারবার্গ শহরের পুলকোভো বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে।
সম্প্রতি হাবার্ডসহ রাশিয়ায় আটক বেশ কয়েকজন আমেরিকান সন্দেহভাজনকে মুক্তি দিতে পুতিনের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে হাবার্ডের মুক্তির বিষয়ে ট্রাম্প জানান, এ বিষয়ে পুতিনের সঙ্গে তার বিস্তারিত আলাপ হয়েছে এবং মুক্তি কার্যকর করতে বলা হয়েছে।
পরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাকে ফিরে পেতে ইচ্ছুক। দেখা যাক কি হয়।‘
এদিকে হাবার্ডের মুক্তির দিন সকালে সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরের পুলকোভো বিমানবন্দরে পৌঁছান ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পুতিনের বিশেষ প্রতিনিধি কিরিল দিমিত্রিয়েভ।
ক্রেমলিনের একজন বিশেষ সহকারী ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, বিমানবন্দর থেকে পিটার্সবার্গের কনস্টেন্টাইন প্রাসাদে দিনের শুরুতে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা রয়েছে উইটকফের।
সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ জানায়, উইটকফ এমন সময় রাশিয়া গেলেন, যখন রাশিয়ার কারাগারে থাকা কয়েকজন আমেরিকান বন্দীর মুক্তির আলোচনাটি চূড়ান্ত এবং প্রক্রিয়াধীন।
সদ্য মুক্তি পাওয়া মিশিগানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হাবার্ড ২০১৪ সাল থেকে পূর্ব ইউক্রেনের একজন বেসামরিক নাগরিক হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন। হাবার্ডের পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে তিনি একজন ইউক্রেনীয় নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন এবং একজন ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরে ২০২২ সালে তার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের যুদ্ধে ভাড়াটে সৈনিক হিসেবে যোগ দেওয়ার অভিযোগ আনে রুশ কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের ভিত্তিতে ওই সময় তাকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে শুরু থেকে অভিযোগটি মিথ্যা দাবি করে এসেছেন হাবার্ড ও তার পরিবার।