ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির মধ্যে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের কঠিন পরীক্ষায় পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন দেশটির নাগরিকেরা। নির্বাচনের প্রথম দিকে ভোটারদের উপস্থিতি গত ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গাযা ও ইরান যুদ্ধ, নিরাপত্তা ব্যর্থতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতা সব মিলিয়ে দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এবারের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণ শুরুর প্রথম তিন ঘণ্টায় ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। ১৯৮১ সালের পর একই সময়ের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি ও তার ডানপন্থী মিত্রদের সঙ্গে সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে কোনো পক্ষেরই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত নয়।
নেতানিয়াহুর সামনে রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই
ইসরায়েলের দীর্ঘতম সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবারের নির্বাচনে তাঁর নিরাপত্তানীতি ও যুদ্ধকালীন নেতৃত্বকে সামনে রেখে প্রচার চালিয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধীরা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার জন্য তাঁর সরকারের জবাবদিহি দাবি করছে।
নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট সাবেক সামরিক প্রধান। তিনি নিরাপত্তা বিষয়ে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। তাঁর সমর্থকেরা মনে করছেন, নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠনের মাধ্যমে দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপকে নিজের নেতৃত্বের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন।
সরকার গঠনে নির্ধারক হতে পারে ছোট দলগুলো
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন। ফলে কোনো দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে ছোট দলগুলোর সমর্থন নিয়ে জোট সরকার গঠনের প্রয়োজন হয়।
রয়টার্সের নির্বাচনী বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নেতানিয়াহু সরকার গঠনের জন্য ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের মতো কট্টর ডানপন্থী নেতাদের দলের ওপর নির্ভর করতে পারেন। অন্যদিকে, আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরকেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে।
কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে সরকার গঠন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকতে পারেন।
এখনো চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হয়নি
রয়টার্সের লাইভ নির্বাচনী ফলাফল সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১০টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ভোট গণনা শুরু হলে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ ও হালনাগাদ করা হবে। ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা ও বুথফেরত জরিপের মাধ্যমে নির্বাচনের প্রাথমিক চিত্র পাওয়া যেতে পারে।
নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এবারের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখনই তাঁর জয়-পরাজয় নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই। চূড়ান্ত ফল এবং জোট গঠনের অঙ্কই নির্ধারণ করবে, তিনি ক্ষমতায় থাকছেন নাকি দেশটির নেতৃত্বে পরিবর্তন আসছে।