ইউরোপজুড়ে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে ধারাবাহিক বোমা হামলার হুমকিতে বিমান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন থেকে ইতালির রোমগামী অ্যার লিঙ্গাসের একটি এয়ারবাস এ৩২০ উড়োজাহাজ নিরাপত্তা সতর্কতার কারণে ফ্রান্সের এভরো সামরিক বিমানঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করে। প্যারিস থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত বিমানঘাঁটিতে উড়োজাহাজটির নিরাপদ অবতরণের কথা জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি।
একই দিনে বুলগেরিয়ায় বোমা হামলার হুমকিতে তিনটি উড়োজাহাজ জরুরি অবতরণ করে। কোপেনহেগেন ও মাদ্রিদ থেকে আসা দুটি ফ্লাইট নিরাপদে সোফিয়ায় অবতরণ করে। লন্ডন থেকে আসা আরেকটি ফ্লাইট সরিয়ে প্লোভদিভ বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়।
চেক পুলিশ জানিয়েছে, প্রাগগামী চারটি উড়োজাহাজে বোমা হামলার হুমকি পাওয়া গেছে। তবে এসব হুমকির বিশ্বাসযোগ্যতা কম বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, হেলসিংকি থেকে রোমগামী ফিনএয়ারের একটি ফ্লাইটকে ইতালীয় বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে সহায়তা করে। একই রুটের আরেকটি ফ্লাইট বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার পরও নিরাপদে ভিয়েনায় অবতরণ করে।
পোল্যান্ডের লট এয়ারলাইনস জানিয়েছে, ওয়ারশ থেকে ব্রাসেলসগামী একটি ফ্লাইট নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং সেখানে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, প্যারিসগামী একটি ফ্লাইট উড্ডয়নের প্রস্তুতির সময় থামিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া মিলান থেকে ওয়ারশগামী উইজ এয়ারের একটি ফ্লাইট বোমা হামলার হুমকিতে ভিয়েনায় অবতরণ করে।
এর আগে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইউরোপের অন্তত সাতটি ফ্লাইট ও একটি প্রমোদতরিতে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এসব ঘটনায় বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।
ইউরোপীয় কর্মকর্তারা রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে হাইব্রিড হামলা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুললেও কোনো দেশকে এসব বোমা হামলার হুমকির জন্য দায়ী করা হয়নি। মস্কো ও তেহরান এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিমান চলাচল খাতের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ভুয়া হুমকির মাধ্যমে বিমান সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও পরিচালনাগত বিঘ্ন সৃষ্টি করা হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স।