ইরান যুদ্ধ কার্যত শেষ হয়ে গেছে—এমন দাবি করছে ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের যুক্তি, এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সংঘাতকে “সমাপ্ত” করেছে। এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সামরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে চাইছে হোয়াইট হাউস।
এই অবস্থানটি প্রথম তুলে ধরেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বৃহস্পতিবার সিনেটে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যত যুদ্ধকে “স্থগিত” করেছে। ফলে এটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না।
অ্যামেরিকার ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট কোনো সামরিক অভিযান ৬০ দিনের বেশি চালাতে চাইলে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যেহেতু যুদ্ধবিরতি চলছে, তাই সেই সময়সীমা প্রযোজ্য নয়।
তবে এই অবস্থান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, যুদ্ধবিরতি থাকা মানেই সংঘাত শেষ হয়ে গেছে—এমন ব্যাখ্যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
কারণ মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ইরান এখনো হরমুজ প্রণালীতে কার্যত নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। অন্যদিকে অ্যামেরিকান নৌবাহিনী ইরানি তেলবাহী জাহাজ বের হতে না দিতে অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।
অর্থাৎ, সামরিক সংঘাত সরাসরি না থাকলেও অর্থনৈতিক ও কৌশলগত লড়াই এখনো চলছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—যুদ্ধবিরতিকে “যুদ্ধের সমাপ্তি” হিসেবে দেখানো কি কেবল আইনি কৌশল? বিশ্লেষকদের মতে, এটি কংগ্রেসের নজরদারি এড়িয়ে প্রশাসনের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ বাড়াতে পারে।
এদিকে যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়েছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার কারণে তেলের দাম বেড়েছে, সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চাপের মুখে পড়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই ব্যাখ্যা কেবল আইনি বিতর্কই নয়, বরং ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও যখন হরমুজে অবরোধ ও নিয়ন্ত্রণ চলছে, তখন সংঘাত সত্যিই শেষ হয়েছে কি না—তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।