


প্রকাশিত: মে ১৫ ২০২৬, ১৪:৩৫ হালনাগাদ: মে ১৫ ২০২৬, ১৫:১৬

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প (বাঁ পাশে) ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি: এনবিসি নিউজ
ইরান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক বাজারে যখন চরম অস্থিতিশীলতা, তখন প্রায় এক দশক পর তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীন যান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
গত মঙ্গলবার দেশটির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে এ যাত্রাকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ সফর’ বলে অভিহিত করেছিলেন তিনি।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দুইদিনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ট্রাম্পের উদ্দেশ্য ছিল, শর্ত মেনে ইরানকে শান্তিচুক্তির টেবিলে ফেরাতে চীনের অবস্থানকে প্রভাবিত করা ও অ্যামেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাণিজ্যিক সফলতা অর্জন।
তবে আশানুরূপ সাফল্য ছাড়াই আজ শুক্রবার অ্যামেরিকার উদ্দেশে চীন ছেড়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, দুই দিনের বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্টের প্রতি ট্রাম্পের নমনীয় আচরণ ছিল লক্ষ্যনীয়।
অন্যদিকে জিনপিং-এর ছিল কঠোর ও দৃঢ় অবস্থান, যা শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের এ কূটনৈতিক সফরকে ব্যর্থ করে।
এ সফরে ট্রাম্পের অন্যতম লক্ষ্য ছিল চীন থেকে তাৎক্ষণিক কিছু বাণিজ্যিক সাফল্য লাভ করা। এর মধ্যে ছিল চীনে সয়াবিনসহ একধিক কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণসহ বড় পরিসরে বিমান বিক্রি করা। কিন্তু ট্রাম্পের ইচ্ছায় ভেটো দিয়ে জিনপিং জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল বাণিজ্যিক পন্থা অবলম্বন করবে বেইজিং।
বাণিজ্যিক কৌশলে ভিন্নমত, জিনপিং-এর জয়
সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে চীনের সঙ্গে শুরু হওয়া বাণিজ্যিক নীতি ‘কৌশলগত প্রতিযোগিতা’ স্থগিত করেন জিনপিং। পরিবর্তে, ‘গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতা’ নীতি শুরুর কথা জানান তিনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন এ নীতি ট্রাম্পের বিপরীতে জিনপিং-এর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সাফল্য।
এ নীতির আওতায়, বাণিজ্যিক স্বার্থ পূরণে অগঠনমূলক পদক্ষেপ, সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ হবে। ফলে চীনের ওপর ট্রাম্পের ইচ্ছা অনুযায়ী শুল্কবৃদ্ধির পথও বন্ধ করতে হবে।
বৈঠকের পর বোয়িং জেটের শেয়ার পতন
বৈঠক শুরুর আগে চীনের কাছে অ্যামেরিকার বিমান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িং এর একসঙ্গে ৫০০টি বিমান বিক্রির পরিকল্পনা করছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু আলোচনায় বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে ব্যর্থ হন প্রেসিডেন্ট। শেষ পর্যন্ত, বোয়িং এর ২০০ বিমান কিনতে সম্মতি দেয় চীন।
আশা অনুযায়ী অর্ধেকেরও কম বিমান ক্রয়ের ঘোষণার পরপর শেয়ার মার্কেটে প্রতিষ্ঠানটির দর কমে যায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ।
ট্রাম্প-জিনপিং বৈঠকে বোয়িং-এর বিমান বিক্রি ছিল বাণিজ্যিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ইরান নিয়ে নেই আশার আলো
ইরানের জ্বালানি তেলের শীর্ষ ক্রেতা ও মিত্র দেশ হিসেবে পরিচিত চীন। ট্রাম্পের পরিকল্পনা ছিল, চীনের মাধ্যমে ইরানের ওপর বল প্রয়োগ করা এবং যুদ্ধ বন্ধে অ্যামেরিকার চুক্তিতে তেহরানকে রাজি করানো। তবে বৈঠকে তেহরান প্রসঙ্গে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি চীন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি সংকটের অবসান চাইলেও ইরানের ওপর বলপ্রয়োগ করবে না চীন। কারণ, তেহরানকে অ্যামেরিকার বিপক্ষে ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণকারী শক্তি হিসেবে দেখছে বেইজিং।
তাইওয়ান প্রসঙ্গে বশ্যতা স্বীকার
বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল পার্শ্ববর্তী দেশ তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বে চীনের হস্তক্ষেপ। তবে আলোচনার শুরুতেই ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দেন জিনপিং। তিনি জানান, তাইওয়ান প্রসঙ্গে বেসামাল বার্তা দিলে, আলোচনা সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
স্বার্থ রক্ষায় জিনপিং-এ হুঁশিয়ারিতে সঙ্গে সঙ্গে সম্মতি জানান ট্রাম্প। তবে আন্তর্জাতিক এ ইস্যুতে চুপ থেকেও, শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ সফরের তকমা নিয়েই ফিরতে হল ট্রাম্পকে।
