নিউ ইয়র্ক সিটিতে বেতন ও কর্মী বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে নার্সদের চলমান বিক্ষোভ ১০ দিন তথা দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে।
এখন পর্যন্ত এ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন সিটির বড় তিনটি বেসরকারি হাসপাতাল মাউন্ট সাইনাই, নিউ ইয়র্ক প্রেসবাইটেরিয়ান ও মন্টেফিওরির প্রায় ১৫০০০ কর্মরত নার্স।
নিউ ইয়র্ক পোস্ট জানায়, গত ১২ জানুয়ারি(সোমবার) তিনটি হাসপাতালে বিক্ষোভোকারীদের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভটি সিটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘদিনব্যাপী চলা বিক্ষোভে পরিণত হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটির খবরে উল্লেখ করা হয়, ইতোমধ্যে দাবি আদায়ে সড়ক ছাড়িয়ে ৩ হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের বাসার সামনে উপস্থিত হয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
মন্টেফিওরির সিইও ফিলিপ ওযউয়াহর বাড়ির সামনে রোববার প্ল্যাকার্ড হাতে উপস্থিত হতে দেখা যায় নিউ ইয়র্ক স্টেইট নার্স অ্যাসোসিয়েশন-এনওয়াইএসএনএর বিক্ষোভকারীরা। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘হাসপাতাল নির্বাহীরা আমাদের অসুস্থ করে তুলেছেন।’
একইসঙ্গে মাউন্ট সাইনাই ও নিউ ইয়র্ক প্রেসবাইটেরিয়ান কর্তৃপক্ষের বাসভবনের সামনে উপস্থিত হয় এনওয়াইএসএনএ। বিক্ষোভকারীরা ‘ন্যায্যতা নয়, শান্তি নয়’ প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ জানান।
বিক্ষোভটি শুরুর অনেক দিন আগে থেকে বেতন বৃদ্ধি, কর্মী সংখ্যা বাড়ানো , নিরাপদ কর্মপরিবেশ, স্বাস্থ্যবীমা সুবিধাসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আসছিলেন ওই তিন বেসরকারি হাসপাতালের নার্সরা।
তবে তাদের দাবি যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাসপাতালগুলোর কর্তৃপক্ষ।
মন্টিফিওর কর্তৃপক্ষ জানায়, বিক্ষোভকারী নার্সদের সঙ্গে সমাধানের পথে অগ্রগতি সম্ভব হবে না, যতক্ষণ না তারা বিবেচনাহীন ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের দাবি থেকে পিছু হটছেন।
মাউন্ট সাইনাই হাসপাতালের সিইও ব্রেনডেন কার কর্মীদের সোমবার এক ইমেইল বার্তায় জানান, দ্রুত সময়ে কোনো সমঝোতায় আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
প্রেসবাইটেরিয়ান হাসপাতালের এক মুখপাত্র জানান, বিক্ষোভোকারীরা যে বেতন দাবি করেছেন টা বাস্তবসম্মত নয়।
এমন অবস্থায় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
প্রেসবাইটেরিয়ান হাসপাতালের ৪৫ বছর বয়সী নার্স জোশ উইলসন বলেন, ‘আমরা কতদিন পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাব? যতদিন পর্যন্ত ন্যায্য আলোচনার জন্য গোলটেবিল বৈঠকে না বসেন।’
‘ব্যক্তিগতভাবে আমি শেষ পর্যন্ত এ লড়াই চালিয়ে যেতে চাই।‘
৬১ বছর বয়সী নার্স সিন্ডি কলিয়ার বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা এ অবস্থায় খুব চাপের মধ্যে আছে এবং রোগীরা দ্রুত তাদের দোষারোপ করতে শুরু করবে।