উদ্যোগ ঘোষণার এক বছর পর প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের গোল্ডেন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় তেমন দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বললেই চলে। প্রযুক্তিগত মতবিরোধ এবং মহাকাশ-ভিত্তিক সরঞ্জাম নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিলিয়ন ডলার অর্থ ছাড়ের বিষয়টি আটকে আছে। এর ফলে জাতীয় নিরাপত্তা খাতে ট্রাম্পের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী প্রকল্পগুলোর একটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
গোল্ডেন ডোম কী?
‘গোল্ডেন ডোম’ হলো আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত একটি উচ্চাভিলাষী মিসাইল প্রতিরক্ষা প্রকল্প।
এই ধারণার লক্ষ্য—
আমেরিকার আকাশসীমাকে ব্যালিস্টিক, ক্রুজ ও হাইপারসনিক মিসাইল হামলা থেকে একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা “ছাতা” দিয়ে সুরক্ষিত করা
নামটি এসেছে ইযরায়েলের আয়রন ডোম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে, তবে এর পরিসর ও জটিলতা অনেক বেশি।
এক বছর পর বাস্তবতা কী বলছে?
রয়টার্স জানায়, এক বছর পার হলেও গোল্ডেন ডোম প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি খুবই সীমিত।
এর পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে—
১. প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ
বর্তমান মিসাইল হুমকির বড় অংশই এখন হাইপারসনিক— যেগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতির, গতিপথ পরিবর্তনে সক্ষম, প্রচলিত রাডার ও ইন্টারসেপ্টর দিয়ে ধরা কঠিন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ডোম’ তৈরি করতে হলে— মহাকাশভিত্তিক সেন্সর, উন্নত রাডার নেটওয়ার্ক, নতুন প্রজন্মের ইন্টারসেপ্টর, সবকিছুর সমন্বয় দরকার, যা এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে।
২. বিপুল ব্যয়
গোল্ডেন ডোম বাস্তবায়নে ব্যয় হতে পারে দশ থেকে শত বিলিয়ন ডলার। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী— কংগ্রেসে অর্থায়ন নিয়ে ঐকমত্য নেই। প্রতিরক্ষা বাজেটে অন্য অগ্রাধিকার যেমন, ইউক্রেইন, ইন্দো-প্যাসিফিক, চায়নাকে মোকাবিলা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে প্রকল্পটি অর্থনৈতিকভাবে আটকে আছে।
৩. রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা
ট্রাম্প প্রশাসন শেষ হওয়ার পর গোল্ডেন ডোম নিয়ে ভবিষ্যত প্রশাসনের আগ্রহ কমে যেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে—এটি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিংয়ের সঙ্গে জড়িত। নতুন প্রশাসন এটিকে পূর্ণাঙ্গ নীতিগত অগ্রাধিকার হিসেবে নাও নিতে পারে। এর ফলে প্রকল্পটি কার্যত নীতিগত অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
৪. কৌশলগত বিতর্ক
সমালোচকদের মতে, এই ধরনের মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা— প্রতিপক্ষকে আরও উন্নত অস্ত্র তৈরিতে উৎসাহিত করতে পারে। অস্ত্র প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারে। রাশিয়া ও চায়না আগেই জানিয়েছে— এমন উদ্যোগ কৌশলগত স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।
তাহলে গোল্ডেন ডোম কি বাতিল?
রয়টার্স বলছে, প্রকল্পটি পুরোপুরি বাতিল হবে না, তবে এটি এখন কাগজে–কলমে সীমাবদ্ধ বাস্তবায়নের স্পষ্ট সময়সূচি নেই প্রযুক্তিগত গবেষণার বাইরে বড় অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে আমেরিকা বরং বিদ্যমান মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নে মনোযোগ দিচ্ছে।