
এইচ-১বি ভিসার নতুন নির্দেশনার বৈধতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

টিবিএন ডেস্ক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১ ২০২৫, ৭:৪৩ হালনাগাদ: মার্চ ১৩ ২০২৬, ১৪:৫৪
.jpg)
ট্রাম্পের এই নতুন ঘোষণার পক্ষে বিপক্ষে চলছে নানা মত। ছবি: গো এলিট
- 0
নতুন এই নির্দেশনার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হবে বলেও মনে করছেন অ্যামেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের সিনিয়র এক কর্মকর্তা।
এইচ-১বি ভিসার জন্য অ্যামেরিকার সংস্থাগুলোর ওপর এক লক্ষ ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ কোটি ২১ লক্ষ টাকা) বোঝা চাপিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। দক্ষ বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ করতে গেলে সংস্থাগুলোকে এই পরিমাণ অর্থ ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে তুলে দিতে হবে।
গেলো শুক্রবার ট্রাম্প এই নির্দেশনামায় স্বাক্ষর করার পর থেকে বিতর্ক শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউসের বক্তব্য, বিদেশ থেকে কর্মী না এনে অ্যামেরিকানদেরই প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলা উচিত বিভিন্ন সংস্থার।
তাহলে দেশের চাকরি অ্যামেরিকানেরাই পাবেন। তবে অনেকেরই মত, এই এক লক্ষ ডলার এইচ-১বি ভিসার আবেদনকারী কর্মীদের কাছ থেকেই নেবে সংস্থাগুলো।
তবে দেশের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্পের এই নির্দেশনার বৈধতা নিয়ে। অ্যামেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, ‘এইচ-১বি ভিসার ওপর এক লক্ষ ডলার চাপানোর আইনত কোনও অধিকারই নেই ট্রাম্পের। প্রক্রিয়াকরণের খরচ তোলার জন্য কিছুটা দাম তিনি বাড়াতে পারেন মাত্র।’
নতুন এই নির্দেশনার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হবে বলেও মনে করছেন তিনি। তবে অ্যামেরিকার আইন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল অনেকের মতে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বৈধ।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন ফি চালুর আগে দ্রুত মামলা করা হতে পারে যাতে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের আগেই বন্ধ করা যায়। আদালতকে নিশ্চিত হতে হবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে ইমিগ্রেশন ও ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট (আইএনএ) এর ধারা অনুযায়ী অনাগরিকদের প্রবেশ স্থগিত করার ক্ষমতা আছে কিনা, আর এটি অর্থনৈতিক শর্ত বা বড় ফি আরোপের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না।
ট্রাম্পের এই নতুন ঘোষণার পক্ষে বিপক্ষে চলছে নানা মত। আমেরিকান ইমিগ্রেশন লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (এআইএলএ) এই ঘোষণাকে বিপজ্জনক অপব্যবহার বলে অভিহিত করেছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা ইতোমধ্যেই নিয়োগকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিদেশী দক্ষ পেশাদারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
এইচ-১বি ভিসা নিয়ে প্রতি বছর বহু মানুষ অ্যামেরিকায় যান। এই মুহূর্তে ভারতীয়রা এই ভিসার সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। শুধু গত বছরেই ভিসার ৭১ শতাংশ আবেদন মঞ্জুর হয়েছে ভারত থেকে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে চিন (১১.৭ শতাংশ)। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে অ্যামাজন এবং তার সহযোগী সংস্থাগুলো ১২ হাজার এইচ-১বি ভিসার আবেদন মঞ্জুর করেছে। মাইক্রোসফ্ট, মেটার মতো সংস্থা মঞ্জুর করেছে পাঁচ হাজার আবেদনে।