ধারণার চেয়ে দ্রুত সামরিক পুনর্গঠন করছে ইরান, অ্যামেরিকার গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ
- 0


প্রকাশিত: মে ২১ ২০২৬, ১৬:৫৬ হালনাগাদ: মে ২১ ২০২৬, ১৭:১৯
এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরান আবারও কিছু ড্রোন উৎপাদন শুরু করেছে। অ্যামেরিকার নতুন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, অ্যামেরিকা ও ইসরাইলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সক্ষমতা তেহরান প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত পুনর্গঠন করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অ্যামেরিকার গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সামরিক পুনর্গঠনের গতি অ্যামেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রাথমিক অনুমানের চেয়েও দ্রুত।
গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, লঞ্চার এবং অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের কাজও দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। এর অর্থ, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যদি আবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেন, তাহলে তেহরান এখনো আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাড়াতে পারে।
বিশেষ করে ড্রোন হামলা নিয়ে উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি। কারণ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, ড্রোন উৎপাদন দ্রুত বাড়িয়ে সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করতে পারে দেশটি। অ্যামেরিকান এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিছু গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী ইরান মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই তাদের পূর্ণ ড্রোন হামলা সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে পারে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, “পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে ইরান গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সব সময়সীমা অতিক্রম করেছে।”
এই মূল্যায়ন এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ট্রাম্প বারবার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন—চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও হামলা শুরু হতে পারে। সম্প্রতি তিনি দাবি করেন, মাত্র এক ঘণ্টা দূরে ছিল নতুন বোমা হামলার সিদ্ধান্ত।
গোয়েন্দা সূত্রগুলোর মতে, ইরান এত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারছে কয়েকটি কারণে। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়া ও চায়নার সহায়তা, এবং অ্যামেরিকা ও ইসরাইলের হামলায় প্রত্যাশিত মাত্রার ক্ষতি না হওয়া।
দুইটি সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধ চলাকালেও চায়না ইরানকে এমন কিছু যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। যদিও অ্যামেরিকার চলমান অবরোধের কারণে সেই সরবরাহ এখন সীমিত হয়ে এসেছে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুও সম্প্রতি অভিযোগ করেন, চায়না ইরানকে “ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের উপাদান” সরবরাহ করছে। তবে বেইজিং এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গোয়েন্দা মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। বরং হামলার পরও এসবের বড় অংশ অক্ষত রয়েছে।
এর আগে সিএনএন জানায়, ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার অ্যামেরিকান হামলা থেকে বেঁচে গেছে। নতুন মূল্যায়নে সেই সংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশে উন্নীত করা হয়েছে। কারণ যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান মাটিচাপা পড়া কিছু লঞ্চার উদ্ধার করতে পেরেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রায় ৫০ শতাংশ ড্রোন সক্ষমতাও এখনো টিকে আছে। একই সঙ্গে দেশটির উপকূলীয় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশ অক্ষত রয়েছে, যা হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে ইউএস মিলিটারি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার কংগ্রেসে দাবি করেছেন, “অপারেশন এপিক ফিউরি” ইরানের ৯০ শতাংশ প্রতিরক্ষা শিল্প ধ্বংস করেছে এবং বহু বছর ধরে দেশটি পুনর্গঠন করতে পারবে না।
কিন্তু নতুন গোয়েন্দা মূল্যায়ন সেই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। দুইটি সূত্র বলছে, ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পে ক্ষতি হলেও পুনর্গঠনের সময়সীমা সম্ভবত কয়েক বছর নয়, বরং কয়েক মাস। এছাড়া দেশটির কিছু সামরিক শিল্পভিত্তি এখনো অক্ষত রয়েছে।
