নারীর ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করে সর্বস্ব খোয়ালেন বৃদ্ধ

টিবিএন ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ১০ ২০২৫, ৯:২২ হালনাগাদ: এপ্রিল ৯ ২০২৬, ২৩:৫৫

বৃদ্ধকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন প্রতারক। ছবি: টাইমস নাও
- 0
ধারণা করা হচ্ছে টাকা আত্মসাতের জন্য একজন নারীই চার জনের ছদ্মবেশ নিয়ে থাকতে পারেন।
ভারতের পশ্চিম উপকূলীয় শহর মুম্বাইয়ে ৮০ বছরের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৭৩৪টি অনলাইন লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ৯ কোটি রুপি হাতিয়ে নিয়েছেন চারজন নারী।
এনডিটিভি জানায়, জালিয়াতি শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে যখন ভুক্তভোগী সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে শারভি নামে এক নারীর সাথে যোগাযোগ করেন।
ঐ নারী দাবি করেন তার স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে এবং সন্তানদের চিকিৎসার খরচের জন্য অর্থ প্রয়োজন।
সময়ের সাথে সাথে কবিতা, দিনাজ এবং জেসমিন নামে আরও তিনজন নারী হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করেন। তারা প্রত্যেকেই নিজেকে শারভির বোন ও বান্ধবী বলে পরিচয় দেন এবং জানান ওই বৃদ্ধের সঙ্গে তারা বন্ধুত্ব করতে চান। বন্ধুত্বের অজুহাতে বিভিন্ন সময় তারা ঐ ব্যক্তির কাছে আর্থিক সহায়তা চাইতে থাকেন।
প্রতারণা আরও তীব্র হয় যখন সে বছরের ডিসেম্বরে দিনাজ নিজেকে জানান, শারভি মারা গেছেন। এরপর তিনি হাসপাতালের বিল পরিশোধের জন্য বৃদ্ধের কাছ থেকে টাকা চান। শারভি ও বৃদ্ধের মধ্যে হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট পাঠিয়ে দিনাজ টাকা আদায় করতে থাকেন।
বৃদ্ধ টাকা ফেরত চাইলে আত্মহত্যার হুমকি দেন দিনাজ।২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ওই বৃদ্ধ ৭৩৪টি লেনদেনের মাধ্যমে এই চার নারীর পেছনে ৮ দশমিক ৭ কোটি রুপি খরচ করেন।
সব সঞ্চয় শেষ হয়ে গেলে ওই ব্যক্তি তার পুত্রবধূদের কাছ থেকে ২ লাখ রুপি ধার নেন ওই নারীদের দেওয়ার জন্য। তাতেও টাকা চাওয়া থামেনি। পরে তিনি তার ছেলের থেকে ৫ লাখ রুপি চান।
ছেলের সন্দেহ হলে বাবাকে প্রশ্ন করেন। বৃদ্ধ সব খুলে বলেন।
একপর্যায়ে বৃদ্ধ বুঝতে পারেন, সাইবার প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন তিনি। এরপরই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ধরা পড়ে, তার ডিমেনশিয়া (স্মৃতিক্ষয়) হয়েছে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, অবশেষে এই বছরের ২২ জুলাই সাইবার অপরাধের অভিযোগে ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা করে। পুলিশ এখন তদন্ত করছে এবং সন্দেহ করছে, চার নারী হয়তো একই ব্যক্তি ছিলেন। প্রতারক পরিকল্পিতভাবে বৃদ্ধকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ওই জালিয়াতি ঘটান।
