ইরানের সাতদিনের প্রস্তাবের শর্ত পূরণে মধ্যস্ততাকারীদের সাথে আলোচনায় কিছু ধারণা পাওয়া গেছে। ইরান সেগুলো মেনে নিয়েছে এবং অ্যামেরিকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছে। এমনটাই জানিয়েছেন, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মঙ্গলবার নিউ ইয়র্ক ত্যাগ করার আগে আরাঘচি জানান, ইরানের প্রস্তাবটি একটি নতুন রূপ নিয়েছে। সমন্বিত এই প্রস্তাবে ট্রাম্প প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পেলেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তেহরান। পরবর্তী এক দিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়ে আরাঘচি বলেন, কাতারের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজ কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সাথে আমাদের আরো একটি বৈঠক হয়েছে। ইরানের শর্তগুলো কীভাবে পূরণ করা যায়, তা নিয়ে বেশ কিছু ধারণা আলোচনা করা হয়েছে। তারা বিষয়টি অ্যামেরিকানদের কাছে পুনরায় উপস্থাপন করবে এবং আমরা ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত উত্তরের অপেক্ষায় আছি। আশা করি আগামীকালকের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।’
ইরানের দেয়া প্রস্তাবে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক কার্যকর করার মাধ্যমে হরমুয প্রণালী উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী জব্দ থাকা ইরানি তহবিল মুক্ত করা, সব লেবানানসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুযে ইউএস অবরোধ প্রত্যাহার করার কথা বলা হয়েছে। ইরানি পররাষ্টমন্ত্রী জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাংঘর্ষিক মন্তব্য সত্ত্বেও দোহার মাধ্যমে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া পেলেই তেহরান এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। নিউ ইয়র্ক ত্যাগ করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগযোগ অব্যাহত থাকবে।
আরাঘচি বলেন, ‘কাতারিদের কাছে যখনই কোনো উত্তর আসবে, তারা জানে কীভাবে তা আমাদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। কাতার ও পাকিস্তানের এই যোগাযোগ ব্যবস্থা আগেও ছিলো। কোনো উত্তর এলে কাতার আমাদের জানানোর পর তার ভিত্তিতে তেহরানেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ওয়াশিংটন-তেহরানের সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত ও মূল্যস্ফীতি ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে গত সপ্তাহে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নানান মন্তব্যে, বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা এখনো কাটেনি। যুদ্ধ ও কৃটনীতির এমন অচলাবস্থার মাঝে তেহরান বলছে, আলোচনা ও সংঘাত উভয়ের জন্যই তারা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।