ভারতের মধ্যপ্রদেশের ধার অঞ্চলে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মসজিদকে সনাতন ধর্মের দেবী সরস্বতীর মন্দির বলে রায় দিয়েছে রাজ্যের হাইকোর্ট।
শুক্রবার হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, কামাল মাওলা মসজিদ, স্থাপনাটি মূলত হিন্দুদের বাগদেবী তথা সরস্বতী দেবীর মন্দির।
মধ্যযুগে নির্মিত এ মসজিদটির আগে, একই স্থানে মন্দির স্থাপিত করা হয়েছিল-এমন একটি আবেদনের ভিত্তিতে শুনানির পর এ রায় দেয় হাইকোর্ট।
রায়ের পরপর, মসজিদের চারপাশ ‘গেরুয়া’ রঙের পতাকায় ছেয়ে দেওয়া হয়-যা মূলত উগ্র হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তার প্রতীক। সেইসঙ্গে তরুণরা মসজিদের চারপাশে নাচতে থাকেন এবং দেবীর একটি স্থায়ী মূর্তি স্থাপন করেন।
পূর্বে ২০০৩ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের সঙ্গে একটি চুক্তির অধীনে হিন্দুরা প্রতি মঙ্গলবার ওই স্থানে যেতে পারতেন এবং মুসলমানরা শুক্রবার নামাজ আদায় করতে পারতেন।
কিন্তু এখন আদালতের রায়ে এই স্থানকে দেবী বাগদেবীর মন্দির ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে হিন্দুদের পূজার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের দাবি খারিজ করা হয়েছে।
রায়ে আদালত মুসলিম পক্ষকে বিকল্প জমিতে মসজিদ নির্মাণের আবেদন করার সুযোগ দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে মসজিদটির মুয়াজ্জিনের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ রফিক জানান, ১৩ থেকে ১৪ শতকের মধ্যে কামাল মাওলা মসজিদ স্থাপিত হয়। সময়ের পরিক্রমায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা।
রফিক গত ৫০ বছর ধরে, মসজিদটির মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে ভারত স্বাধীন হওয়ার আগে তার দাদা এ মসজিদে নামাজ পরিচালনা করতেন।
পরে রফিক বলেন, ‘মসজিদটি ছিল আমার দ্বিতীয় বাড়ির মতো। এখন থেকে আমিসহ শহরের অন্য মুসলিমরা এখানে আর প্রবেশ করতে পারবে না।‘
এদিকে মুসলিম পক্ষের আইনজীবি ও সমালোচকেরা বলছেন, আদালত অতিরিক্ত উদ্যোগ নিয়ে মসজিদটি হিন্দুদের হাতে তুলে দিয়েছে।
১৯৩৫ সালের একটি সরকারি গেজেট নোটিশে উল্লেখ ছিল যে, মুসলমানদের এ স্থানে নামাজে কোনো বাধা নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। কারণ এটি একটি মসজিদ এবং ভবিষ্যতেও মসজিদই থাকবে।
তবে আদালত সেই ব্রিটিশ আমলের নথিকে গ্রহণ করেনি।