বৃটেনে নিষিদ্ধ সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনে’র সমর্থনে বিক্ষোভ করায় ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে লন্ডন পুলিশ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) আমেরিকার দূতাবাসের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সংগঠনটির ওপর সরকারের নিষেধাজ্ঞার বৈধতা নিয়ে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে আপিল শুনানির কয়েক দিন আগে এ ঘটনা ঘটল।
লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শনিবার দুপুরে আমেরিকার দূতাবাসের সামনে কয়েক শ বিক্ষোভকারী জড়ো হওয়ার পর গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হয়। বিকেল নাগাদ ৪৮ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ। এ সময় আরও গ্রেপ্তার অভিযান চলছিল। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতি সমর্থন প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে।
একই দিন স্কটল্যান্ডের এডিনবরাতেও আমেরিকার কনস্যুলেটের সামনে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভকারীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার দেখা যায়। সেগুলোতে লেখা ছিল, ‘গণহত্যা বন্ধের চেষ্টা করা অপরাধ কীভাবে হয়?’ এবং ‘আমরা বিক্ষোভকারী, সন্ত্রাসী নই’।
এ ছাড়া অনেকের হাতে ছিল ‘আমি গণহত্যার বিরোধিতা করি, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করি’ লেখা প্ল্যাকার্ড।
ব্রিটিশ সরকার ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এর ফলে সংগঠনটির সদস্য হওয়া কিংবা প্রকাশ্যে সমর্থন জানানো ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর থেকে সংগঠনটির প্রতি সমর্থন প্রকাশের অভিযোগে প্রায় ৪ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে প্রবীণ নাগরিক এবং হলোকাস্ট থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
গত জুলাইয়ে এ-সংক্রান্ত ২ হাজারের বেশি মামলার শুনানি বছরের পরবর্তী সময় পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।
জানা যায়, প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা হুদা আম্মোরি সরকারের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ করেছেন। তাঁর দাবি, সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ছিল অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এর মাধ্যমে মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে।
আগামী ৪ নভেম্বর থেকে বৃটেনের সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে দুই দিনের শুনানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত জুনে দেশটির আপিল আদালত সরকারের পক্ষে রায় দিয়ে সংগঠনটির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানিতেই এবার চূড়ান্ত আইনি অবস্থান নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগোবে।
এএফপি’র প্রতিবেদনে অনুযায়ী, বারবার গ্রেপ্তার হলেও প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থনে বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন অনেকে। ৭৫ বছর বয়সী অ্যাঙ্গি জেল্টার জানান, আগেও অন্তত আটবার অভিযুক্ত হয়েও সুপ্রিম কোর্টের শুনানির আগে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন তিনি। প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে আদালতের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশা করছেন তিনি। অন্যদিকে, ৭০ বছর বয়সী মারজি ম্যানসফিল্ড জানান, এ ঘটনায় তাঁকে প্রায় ১০ বার গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এছাড়া প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থনের কারণে আইরিশ লেখক স্যালি রুনির বই বৃটেইনে বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে প্রকাশক ফ্যাবার।
প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে ঘিরে বৃটেনে জাতীয় নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সংগঠনটির ওপর নিষেধাজ্ঞার বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আসন্ন শুনানিতে এসব বিষয়ই গুরুত্ব পাবে।