বিক্ষোভ চলাকালে সংঘর্ষের মধ্যে একজন বিক্ষোভকারী আতশবাজি ব্যবহার করেন। ছবি: রয়টার্স
0
ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমার একটাই বার্তা— সবাই শান্ত থাকুন। বিক্ষোভ করা এবং নিজের মত প্রকাশ করা গণতন্ত্রেরই অংশ। তাছাড়া এটি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। আমরা এই অধিকারকে পুরোপুরি সম্মান করি। তবে, এই অধিকারের পাশাপাশি কিছু দায়িত্বও রয়েছে। ব্যক্তি ও সম্পত্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। কাউকে অপমান করা বা ভাঙচুরের মতো কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।’
শিক্ষাখাতে অর্থ বরাদ্দের ঘাটতি, শিক্ষক সংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ আরো তীব্র হয়েছে। শনিবার দেশটির রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে আয়োজিত বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়। কোথাও কোথাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। এদিকে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকারের প্রতিও সমর্থন জানান তিনি।
এদিন প্যারিসের বিভিন্ন সড়কে জড়ো হতে দেখা যায় শিক্ষার্থী, ট্রেড ইউনিয়ন ও ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনকারীদের। এ সময় প্যারিসের গার দ্যু-নর রেলস্টেশনের কাছে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীরা মুখোমুখি অবস্থান নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শহরের কেন্দ্রে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষিত মোটরসাইকেল আরোহী পুলিশেরও ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। এছাড়া, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে প্যারিসে অন্তত ২৬টি মেট্রো স্টেশন সাময়িক বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করেছে কর্তৃপক্ষ।
দুপুরের দিকে প্যারিসের অপেরা এলাকায় দাঙ্গাপুলিশ অবস্থান নেয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা প্লাস দো লা রিপাবলিক চত্বরে জড়ো হতে শুরু করেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, আন্দোলনে তাদের সাথে কর্মজীবীদের যুক্ত হওয়াকে একটি ভালো লক্ষণ হিসেবে দেখছেন তারা। বিক্ষোভে যোগ দেয়া কর্মজীবী মানুষরা জানান, তাদের ও শিক্ষার্থীদের চাওয়া এখন একটি অভিন্ন লক্ষ্যে এসে দাঁড়িয়েছে, আর তা হলো- ফ্রান্সে একটি সুন্দর জীবনের প্রত্যাশা।
একইদিন, ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গ শহরে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে দাঙ্গা পুলিশ। এসময় পুলিশের হাতে কয়েকজন বিক্ষোভকারী আটক হন। লিওঁ শহরেও বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এসময় শহরের ট্যুরিস্ট অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে ফায়ারফাইটাররা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করেন। এর আগে শুক্রবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এক বিশেষ বার্তায় দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকারের প্রতিও সমর্থন জানান তিনি।
ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমার একটাই বার্তা— সবাই শান্ত থাকুন। বিক্ষোভ করা এবং নিজের মত প্রকাশ করা গণতন্ত্রেরই অংশ। তাছাড়া এটি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। আমরা এই অধিকারকে পুরোপুরি সম্মান করি। তবে, এই অধিকারের পাশাপাশি কিছু দায়িত্বও রয়েছে। ব্যক্তি ও সম্পত্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। কাউকে অপমান করা বা ভাঙচুরের মতো কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।’
গত মাসে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন ট্রেড ইউনিয়ন ও সাধারণ মানুষের আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়ে ক্রমেই গণআন্দোলনে রুপ নিচ্ছে।