চলতি বছরের শেষে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক।
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, পণ্য পরিবহনে সৃষ্ট সমস্যা এবং কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য সরবরাহে সমস্যা এবং স্বর্ণের মতো নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত সম্পদের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে পণ্যের বাজারে এ প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছর বিশ্ববাজারে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, খাদ্যপণ্য ও ধাতুর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হলে এবং রাশিয়ার তেল অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ৭ শতাংশ কমতে পারে। তবে এল নিনোর প্রভাবে আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন অব্যাহত থাকলে খাদ্যপণ্যের দাম উচ্চপর্যায়ে থাকতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সুদের হার বাড়ানো বা মুদ্রানীতি আরও কঠোর করার পথে যেতে হতে পারে।
তেলের সরবরাহ কমার আশঙ্কা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের মজুত কমে গেছে। এ পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালে বিশ্বে তেলের সরবরাহ ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমতে পারে। ২০২০ সালের বৈশ্বিক মন্দার সময় বাদ দিলে গত চার দশকের মধ্যে তেলের সরবরাহে এটি হবে সবচেয়ে বড় পতন।
চলতি বছর বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর জ্বালানির দাম আর এত বেশি ছিল না।
তেলের উৎপাদন কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দামও উচ্চপর্যায়ে থাকতে পারে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস, চলতি বছর প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট তেলের গড় দাম ৯২ ডলারে দাঁড়াতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে বলেন, ‘একই সময়ে পণ্যবাজারে বেশ কয়েকটি বড় সংকটের প্রভাব পড়ছে। জ্বালানির উচ্চ ব্যয় ও বাণিজ্যে বিঘ্নের কারণে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে মূল্যস্ফীতি, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।’
খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস, কৃষ্ণসাগরে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের কারণে শস্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ১০ শতাংশের কিছু বেশি বাড়তে পারে। ২০২৭ সালে দাম আরও ৭ শতাংশের বেশি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দুই বছরে খাদ্যপণ্যের দাম সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৮ শতাংশ বাড়তে পারে।
প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে, ১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে তীব্র এল নিনোর প্রভাব, কৃষ্ণসাগরে শস্য পরিবহনে আরও বিঘ্ন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের বিস্তার এবং রাশিয়ার তেল অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি—এসব পরিস্থিতি একসঙ্গে দেখা দিলে খাদ্যপণ্যের দাম পূর্বাভাসের চেয়ে আরও ১২ শতাংশ বাড়তে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে বড় ধরনের খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০-এর দশকের শুরুর দিকে খাদ্যসংকটের কারণে বিশ্বে আরও ৪ কোটির বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে।