ল্যাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আজ রোববার দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো।
৮০ বছর বয়সী লুলা চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট হতে চাইছেন। অন্যদিকে ৪৫ বছর বয়সী বলসোনারো সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে।
এর আগে গত ৪ অক্টোবর প্রথম দফার ভোটে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিলেন ফ্লাভিও। তবে রান অফ বা দ্বিতীয় দফায় জয় নিশ্চিত করতে তাকে এখন ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখতে হবে। ব্রাজিলের নির্বাচনের ইতিহাসে প্রথম দফায় পিছিয়ে থাকা কোনো প্রার্থী দ্বিতীয় দফায় জয়ী হওয়ার নজির নেই।
গত ৪ অক্টোবরের প্রথম দফায় ফ্লাভিও প্রায় ৪৭ শতাংশ এবং লুলা ৪৪.৯ শতাংশ বৈধ ভোট পেয়েছিলেন। ফলে কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ জানায়, রোববার সকালে রিও ডি জেনেইরোর একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন ফ্লাভিও। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘প্রকৃত পরিবর্তনের সময় এসে গেছে।’
নির্বাচনী প্রচারে সংগঠিত অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া, কর কমানো এবং সরকারি ব্যয় হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ফ্লাভিও। তার সমর্থকদের আশা, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি ব্রাজিলে পরিবর্তন আনতে পারবেন।
২০২২ সালের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে ফ্লাভিওর বাবা সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ২৭ বছরের কারাদণ্ড হয়। অসুস্থতার কারণে বর্তমানে তিনি গৃহবন্দী অবস্থায় সাজা ভোগ করছেন। বাবাকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ফ্লাভিও।
এদিকে প্রথম দফার ভোটে ফ্লাভিও এগিয়ে থাকার পর লুলার সমর্থকেরাও তার পক্ষে বড় বড় সমাবেশ করেছেন। চলতি মাসের শুরুতে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ভোট না দেওয়ায় এবার ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা।
শনিবার রিও ডি জেনেইরোর কোপাকাবানা সমুদ্রসৈকতে এক সমাবেশে লুলা বলেন, ‘এবারের নির্বাচন ব্রাজিলের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। ভোটারদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা ব্রাজিলের পতাকার প্রতি আনুগত্য প্রকাশকারী নেতাকে বেছে নেবেন, নাকি আমেরিকার পতাকার প্রতি আনুগত্য প্রকাশকারী নেতাকে সমর্থন করবেন।‘
লুলার সরকার ব্রাজিলের নির্বাচনে আমেরিকার হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে। তবে ওয়াশিংটন এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
সমাবেশে লুলা বলেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চায়, এটা সত্য। কিন্তু তারা সামনে এগিয়ে যেতে চায়, পেছনে ফিরে যেতে চায় না।’
লুলার এক সমর্থক বিবিসিকে বলেন, তাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিজেদের শক্তি দেখানো এবং ভোটের ফল নিজেদের পক্ষে ঘুরিয়ে দেওয়া।
নির্বাচনে ব্রাজিলের জাতীয় পতাকার হলুদ-সবুজ রং এবং জাতীয় ফুটবল দলের জার্সিও প্রতীকী গুরুত্ব পেয়েছে। ফ্লাভিওর সমর্থকেরা এসব রং ব্যবহার করলেও, লুলার সমর্থকেরা এখন সেগুলোর ওপর নিজেদের অধিকার পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।