গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসায় ছয় বছরের শিশুশিক্ষার্থীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারের পর এবার ওই শিশুর বাবাকে গ্রেপ্তার অভিযানে নেমেছে পুলিশ।
একজন মেয়ে শিশুকে চুমু দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ওই শিক্ষক হলেন মো. মোসলেম আহমদ। তিনি টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ক্বরিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল। গত ২১ অক্টোবর (বুধবার) শিশুকে চুমু দেওয়ার অভিযোগে জনতার মারধরের পর পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়। পরে ২২ অক্টোবর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, শিক্ষককে চড় মারা ওই শিশুর বাবা হলেন শাহজালাল রুমি। শিক্ষককে গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে মাদ্রাসায় ভাংচুর ও কর্মীদের মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী।
এর আগে গত বুধবার মেয়েশিশুকে চুমু দেওয়ার অভিযোগে মাদ্রাসায় হাজির হন বাবা রুমি। রুমিসহ স্থানীয় কয়েকজন জড়ো হয়ে ওই শিক্ষককে চড় মারেন।
চড় মারার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয় গত বৃহস্পতিবার। ভিডিওতে দেখা যায়, চড় মারার আগে ওই শিক্ষক বলছেন, "স্টুডেন্টদের সাথে অন্য রকম সম্পর্ক। সবার সাথে, বিশেষ করে ক্লাস ওয়ানের। তার এক পর্যায়ে আমি বললাম, চুমু'।"
এই পর্যায়ে 'কীসের চুমুরে' একথা বলে তাকে থাপ্পড় দিয়ে ফেলে দেন সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রুমি।
ভিডিও ভাইরালের পর ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। আলেম সমাজের একাংশসহ একটি পক্ষ চুমুর অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষ নেয়। অপর পক্ষ শিশু নির্যাতন ও বাবা হিসেবে রুমির পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নয়।
সর্বশেষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রুমির বিরুদ্ধে মামলার তথ্য ও গ্রেপ্তার অভিযান চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন।
তিনি জানান, রুমিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তবে সামাজিক মাধ্যমে বড় একটি অংশের ভাষ্য, রুমিকে গ্রেপ্তার করা হলে মাদ্রাসায় চলমান শিশু যৌন নির্যাতকারীরা আরও প্রশ্রয় পেতে পারেন।