দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইটে পাইলটদের সংঘর্ষ, সৌদিতে জরুরি অবতরণ
- 0


প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩০ ২০২৬, ১৩:৩৬
দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমানে মাঝ আকাশে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষের পর সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করেছে বিমানটি। বুধবার সকালে মাঝ আকাশে বিমানটি জরুরি সংকেত দেওয়ার পাশাপাশি বেআইনি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বোঝানো একটি সংকেতও পাঠায়। এতে সম্ভাব্য হাইজ্যাকের আশঙ্কায় ইযরায়েল যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠালেও পরে বিমানটি নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 ফ্লাইটটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বুধবার সকালে ইযরায়েলের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়েছিল। উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিমানটি জরুরি সংকেত পাঠায়। ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, তখন বিমানটি প্রায় ৩৩ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল। এরপর প্রায় এক মিনিটের মধ্যে বিমানটি নেমে আসে ১৭ হাজার ফুটে—প্রায় ১৬ হাজার ফুট উচ্চতা হারায়।
এরপর বিমানটি জর্ডানের আকাশসীমার ওপর দিয়ে সৌদি আরবের দিকে ঘুরে যায়। ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে বিমানটি সাধারণ জরুরি সংকেত 7700 পাঠায়। কয়েক মিনিট পর সেটি 7500 সংকেত পাঠায়, যা বিমানে বেআইনি হস্তক্ষেপ বা সম্ভাব্য হাইজ্যাকের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। পরে আবার 7700 সংকেতে ফিরে আসে।
এই সংকেত পাওয়ার পর সম্ভাব্য হাইজ্যাকের আশঙ্কায় ইযরায়েলি কর্তৃপক্ষ যুদ্ধবিমান পাঠায়। তবে পরে ইযরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাটি হাইজ্যাকিং ছিল না; বিমানের ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষ থেকেই জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ককপিটে কী ঘটেছিল
ঘটনার বিস্তারিত নিয়ে পরে আরও তথ্য সামনে আসে। রয়টার্সকে দুই ইযরায়েলি কর্মকর্তা জানান, সহকারী পাইলট ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করেছেন বলে তাদের ধারণা। এরপর কেবিন ক্রুর সদস্যরা ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। উভয় পাইলটকেই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এপি-এর প্রতিবেদনেও একজন পাইলটের হাতে ছুরি থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিমানের যাত্রীদের বর্ণনা অনুযায়ী, তারা চিৎকার শুনেছেন এবং ককপিটের ভেতরে রক্ত দেখতে পেয়েছেন। তবে ঘটনার উদ্দেশ্য এবং সংঘর্ষের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।
একজন ইযরায়েলি কর্মকর্তা এটিকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তবে এটি এখনো তদন্তাধীন একটি সম্ভাবনা; ফ্লাইদুবাই বা সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
তাবুকে নিরাপদে অবতরণ
ঘটনার পর বিমানটি স্থানীয় সময় পৌনে নয়টায় সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে আছেন। এয়ারলাইনটি বলেছে, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে এবং তদন্তে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে।
বিমানটিতে প্রায় ১৫০ জন ইযরায়েলি যাত্রী ছিলেন বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানানো হয়েছে। ইযরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যাত্রীদের ইযরায়েলে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সৌদি আরবে ইযরায়েলি যাত্রী
ঘটনাটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো—ইযরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে এখনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে ২০২২ সাল থেকে ইযরায়েলি বিমান সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমান যোগাযোগে এই রুট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এপি-এর মতে, সৌদি ভূখণ্ডে ইযরায়েলি যাত্রীবাহী বিমানের এমন জরুরি অবতরণ বিরল ঘটনা।
ফলে একটি বেসামরিক বিমানের নিরাপত্তাজনিত কারণে সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ শুধু বিমান চলাচলের ঘটনা নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তার দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এখন তদন্তকারীদের সামনে মূল প্রশ্ন—ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, কেন 7500 সংকেত পাঠানো হয়েছিল এবং ঘটনাটি নিছক পাইলটদের সংঘর্ষ ছিল, নাকি এর পেছনে পরিকল্পিত হামলার কোনো উদ্দেশ্য ছিল। এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্ত শেষ হলে।
