দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের ককপিটে এক পাইলট আরেক পাইলটকে ছুরিকাঘাত করার পর উড়োজাহাজটি দুই মিনিটেরও কম সময়ে ১৭ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়। যাত্রীদের কয়েকজন ককপিটে ঢুকে হামলাকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনার পর সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুকের বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে উড়োজাহাজটি।
ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটে ১৬০ থেকে ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন বলে ইযরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তাদের অধিকাংশই ইযরায়েলি নাগরিক। উড়োজাহাজটি সৌদি-জর্ডান সীমান্তের কাছে পৌঁছানোর পর বিপৎসংকেত পাঠিয়ে আকস্মিকভাবে গতিপথ পরিবর্তন করে।
ইযরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় বলেন, এক পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে এবং উড়োজাহাজটি যাত্রীসহ বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নেতানিয়াহু আরও জানান, একজন ইযরায়েলি যাত্রী এক ক্রু সদস্যের সঙ্গে ককপিটে ঢুকে অন্য যাত্রীদের সহায়তায় হামলাকারী পাইলটকে পরাস্ত করেন। তাঁর মতে, যাত্রীদের দ্রুত পদক্ষেপেই বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তিনি ওই যাত্রীদের সাহস ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন।
ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, উড়োজাহাজে দুই পাইলটের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে দায়িত্বে থাকা ক্রু সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনায় পাইলট ও সহকারী পাইলট দুজনই আহত হন এবং তাদের সৌদি আরবের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর তাবুক থেকে বিকল্প একটি উড়োজাহাজে সব যাত্রীকে তেল আভিভ নিয়ে যাওয়া হয়। ইযরায়েলের জরুরি চিকিৎসা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড আদম জানিয়েছে, যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা দিতে তাদের দল প্রস্তুত ছিল।
তবে ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। ইযরায়েলি কর্মকর্তারা তদন্ত করে দেখছেন, এটি ইযরায়েলিদের লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা ছিল, নাকি আত্মহত্যার চেষ্টা—এমন কয়েকটি সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর হামলাকারী পাইলটকে গ্রেপ্তার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।
বিমানের ভেতরে ধারণা করা কয়েকটি সামাজিক মাধ্যমের ভিডিওতে আহত এক ব্যক্তিসহ রক্তাক্ত যাত্রীদের দেখা গেছে। যাত্রীরা জানিয়েছেন, উড়োজাহাজ দ্রুত নিচে নামতে থাকায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন এবং উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন।
ফ্লাইদুবাই ২০২০ সালে ইযরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর দুবাই-তেল আভিভ রুটে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করা প্রথম বিমান সংস্থাগুলোর একটি।