ফিলিস্তিনে আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচন পিছিয়ে ২০২৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নির্ধারণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। একই দিনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।
ইসরায়েল কর্তৃক সৃষ্ট বিভিন্ন বাধা ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্বাচন পেছানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
শনিবার আব্বাসের জারি করা এক ডিক্রির বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ডিক্রিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার আব্বাসের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনে সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল প্রায় দুই দশক আগে। আব্বাসের বক্তব্যকে তিনি ‘দায়িত্ব ও জবাবদিহি এড়ানোর উদ্দেশ্যে বলা আরেকটি হাস্যকর মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেন।
ফিলিস্তিনে ২০০৫ ও ২০০৬ সালের পর আর কোনো প্রেসিডেন্ট বা সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০০৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর আব্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামপন্থী গোষ্ঠী হামাস গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর সেখানে আব্বাসের দল ফাতাহর অনুগতদের উৎখাত করা হয়।
২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে আব্বাসের মেয়াদ শেষ হলেও এরপর থেকে তিনি ডিক্রি জারির মাধ্যমে শাসন পরিচালনা করছেন।
নির্বাচন পেছানোর কারণ হিসেবে ডিক্রিতে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হামলা, ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং চলাচলে বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ফিলিস্তিনিদের প্রাপ্য করের অর্থ ইসরায়েল আটকে রাখায় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
গাজার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি, ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার না হওয়া এবং পুনর্গঠন কার্যক্রমে অগ্রগতির অভাবকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী ও পুলিশ মোতায়েনের পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হয়নি বলে ডিক্রিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মী ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের গাজা এবং পূর্ব জেরুজালেমে প্রবেশে ইসরায়েলের বিধিনিষেধও প্রস্তুতিতে জটিলতা তৈরি করেছে বলে দাবি করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।
ডিক্রিতে জেরুজালেম, পশ্চিম তীর ও গাজার ফিলিস্তিনিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্বাচন পেছানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ফিলিস্তিনের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শক্তির সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ঐক্য জোরদার করতে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় সংলাপের সুযোগ তৈরি করাও এ সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।