চলতি মাসের ২৭ তারিখ ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হতে গাজায় চলমান হামলার বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন ডানপন্থী সরকার লিকুদ পার্টি ও প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। গাজায় প্রভাব বিস্তার, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সরাসরি বিরোধিতাসহ নির্বিচারে হামলার প্রতিশ্রুতি হয়ে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম হাতিয়ার।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরাইয়েলি ভোটারদের কাছে অভ্যন্তরীণ সংস্কারের চেয়ে ফিলিস্তিনি হামলা থেকে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং গাজায় নিজেদের প্রভাব বিস্তার এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যার ফলে, লিকুদ পার্টিসহ প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য ডানপন্থী দলগুলো গাজা ইস্যুতে নিজ নিজ সমর্থকদের প্রতি উগ্র মন্তব্য এবং অমানবিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছে।
টানা ১৯ বছর দেশটির ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গত ২৯ সেপ্টেম্বর ইঙ্গিত দেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরায়েলে হামলা চালাবে ফিলিস্তিন। কোনো প্রমাণ ছাড়াই এমন মন্তব্য করে তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের সীমান্তকে রক্ষা করতে তিনিই এখন একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি। বিশ্লেষকদের মতে, এই দাবিই এখন নেতানিয়াহুর শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী প্রচারণার মূল ভিত্তি।
অন্যদিকে, নির্বাচনী বছরজুড়ে বিভিন্ন সময় ফিলিস্তিন ইস্যুতে উগ্র মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার শিকার হয়েছেন ক্ষমতাসীন সরকারের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ও জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গাভির।
গত মাসের শেষ দিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটকে দেওয়া এক বক্তব্যে স্মোট্রিচ বলেন, ‘দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর যুদ্ধে যাওয়া উচিত এবং গাজায় যা করা হয়েছে, সেখানে তা-ই করা উচিত।‘
উস্কানিমূলক এসব বক্তব্যের জন্য একাধিক পশ্চিমা দেশ স্মোট্রিচের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও, আসন্ন নির্বাচনে তার এ মনোভাবই জয়ের পথে এগিয়ে রেখেছে।
অন্যদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে বেন গাভির তার আক্রমণাত্মক মন্তব্যের ফলে এতটাই শক্ত অবস্থানে পৌঁছেছেন যে, তার পরবর্তী প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে লন্ডনের কিংস কলেজের জেষ্ঠ্য শিক্ষক ও ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশ্লেষক আহরন ব্রেগম্যান বলেছেন, দেশটির এ উগ্র আচরণ এক প্রকার উন্মাদনা কিন্তু এটিই এখন ইসরায়েলের বাস্তবতা।
ব্রেগম্যান আরও বলেন, কয়েক দশক ধরেই ইসরায়েলি জনগণকে ডানপন্থী মনোভাবাপন্ন করে তোলার প্রক্রিয়া চলছিল। ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর হামাস কর্তৃক ইসরায়েলে হামলার পর এ মনোভাব পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি ইসরায়েলিদের মধ্যে উগ্র জাতীয়তাবাদ গড়ে উঠে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষক আহমেদ নাজ্জার বলেন, নির্বাচনী প্রচারে ফিলিস্তিনিদের সম্পূর্ণ অমানবিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ইসরায়েলি ভোটারদের সামনে গাজাকে এমন কোনো বিপর্যয় বা অপরাধ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে না, যার জন্য জবাবদিহি প্রয়োজন। বরং অন্য জায়গাতেও একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালানোর একটি নকশা হিসেবে দেখানো হচ্ছে।