আফগান সীমান্তে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। করাচির দাবি, এই হামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান-টিটিপির ২৬ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
তবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার বলছে, নিহতদের মধ্যে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক ছিলেন, যাদের অধিকাংশই শিশু।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বুধবার সামাজিকমাধ্যম এক্স পোস্টে জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় টিটিপির আস্তানা ও নিরাপদ ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট ও নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে।
তার দাবি অনুযায়ী, হামলায় একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র, একটি গোলাবারুদের গুদাম এবং টিটিপির দুই কমান্ডারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবস্থানসহ মোট চারটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।
পাকিস্তান জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার জবাব হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে আছে খাইবার পাখতুনখোয়া ও উত্তর ওয়াজিরিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আত্মঘাতী ও সশস্ত্র হামলার ঘটনা।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের হামলায় কুনার, খোস্ত ও পাকতিকা প্রদেশে ১১ শিশু, একজন নারী এবং একজন বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও ১৪ জন নারী ও শিশু আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমরা এই মানবিক অপরাধ ও আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানাই।‘
স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, খোস্ত প্রদেশের স্পেরা জেলার একটি বাড়িতে হামলায় নয়জন নিহত ও ১০ জন আহত হন। এছাড়া পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় আরেকটি হামলায় তিনজন শিশু নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সীমান্তে কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর মঙ্গলবার রাতের এই হামলাগুলোকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২১ সালে তালেবান পুনরায় আফগানিস্তানের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ইসলামাবাদ ও কাবুলের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগান ভূখণ্ডে অবস্থানরত টিটিপি সদস্যরা পাকিস্তানে হামলা চালায় এবং তারা সেখানে আশ্রয় পেয়ে থাকে।
তবে আফগানিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলে, পাকিস্তানই বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেয় এবং আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে।