আদালতের রায়ের পর দুই হাতের আঙ্গুলে ভি এঁকে, বিজয়ীর বেশে হাসিমুখে বেরিয়ে আসেন, কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মোহসেন মাহদাউই। বুধবার ভার্মন্টের বার্লিংটনের আদালতে, শুনানি শেষে তাকে অভিবাসন হেফাজত থেকে মুক্তি দেন, বিচারক জিওফ্রে ডাব্লিউ ক্রফোর্ড। ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাসনের প্রচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে, প্রথম কোনো অভিবাসী শিক্ষার্থী হিসেবে জামিনে মুক্তি পেলেন মাহদাউই।
মুক্তির পর আদালত প্রাঙ্গণে সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উষ্ণ অভ্যর্থনায় সিক্ত হন তিনি। সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি তার আস্থার কথা জানান এই প্যালেস্টিনিয়ান। একইসঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের অনৈতিক আটকের বিরুদ্ধেও কড়া ভাষায় জবাব দেন।
গত ১৪ এপ্রিল সিটিযেনশিপ অফিসে নাগরিকত্বের পরীক্ষা দিতে এসে আইস কর্মকর্তাদের হাতে আটক হন মাহদাউই। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্যালেস্টাইনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেয়ার অভিযোগে ভারমন্টের নর্থ-ওয়েস্ট স্টেইট কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে দুই সপ্তাহ তাকে আটকে রাখা হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দখলকৃত ওয়েস্ট ব্যাংকের শরণার্থী আশ্রয়কেন্দ্র আল-ফারাতে বড় হয়েছেন মোহসেন মাহদাউই। যেখানে ১৫ বছর বয়সে এক ইযরায়েলি সেনার পায়ে গুলি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও, এক অস্ত্র দোকানের মালিকের বরাত দিয়ে বলা হয়, ২০১৫ সালে ইহুদিদের হত্যার উদ্দেশ্যে মেশিনগান তৈরির চেষ্টা করেছিলেন মাহদাউই। তবে, তার আইনজীবীরা দাবি করেন, ক্যাম্পাসে প্যালেস্টাইনপন্থি বিক্ষোভে সক্রিয় অংশগ্রহণ বা ইযরায়েলের সমালোচনাকারী অন্যান্য বিদেশী শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তারেরও একই ধরনের যুক্তি ব্যবহার করেছে, ট্রাম্প প্রশাসন।
যদিও, ২০২১ সালে কলাম্বিয়ায় ভর্তি হওয়ার এক দশকেরও বেশি সময় আগে অ্যামেরিকায় আসেন মাহদাউই। আইন-শৃঙ্খলা বিরোধী কাজে কখনই জড়িত না থাকায়, বৈধভাবেই এদেশে বসবাসের অনুমতি পান, ৩৪-বছর বয়সি এই প্যালেস্টিনিয়ান। ফলে, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগে পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা হেবিয়াস আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে অ্যামেরিকা থেকে নির্বাসন বা ভার্মন্ট থেকে বহিষ্কার না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।