নিউ ইয়র্ক সিটি
কৃষ্ণাঙ্গদের নিয়ে বিদ্রূপের পর রোষানলে অধ্যাপক, সাময়িকভাবে বরখাস্ত

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৬ ২০২৬, ১৪:১৫

অভিযুক্ত ওই শিক্ষক হলেন অ্যালিসন ফ্রিডম্যান, যিনি হান্টার কলেজে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স

অভিযুক্ত ওই শিক্ষক হলেন অ্যালিসন ফ্রিডম্যান, যিনি হান্টার কলেজে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স

  • 0

বৈঠকটির ভিডিওতে ফ্রিডম্যানকে বলতে শোনা যায়, ‘তারা(কৃষ্ণাঙ্গরা) এতটাই বোকা যে খারাপ স্কুলে পড়লে, সেটিও তারা বুঝতে পারে না।’ পরে মার্টিন লুথার কিং-এর একটি উক্তি তুলে ধরে ফ্রিডম্যান বলেন, 'তবে আপনি যদি একজন কৃষ্ণাঙ্গকে সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দেন, তাহলে তারা নিজেরাই বুঝতে পারবে কি করতে হবে, আপনাকে বারবার বলে দিতে হবে না।’

বর্ণবিদ্বেষী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।

অভিযুক্ত ওই শিক্ষক হলেন অ্যালিসন ফ্রিডম্যান, যিনি হান্টার কলেজে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

অভিযুক্তকে বরখাস্ত করার বিষয়টি বুধবার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে হান্টার কলেজের সভাপতি ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ন্যান্সি ক্যান্টর ।

ক্যান্টর বিবৃতিতে বলেন, ‘সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক সিটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট(৩) এর কমিউনিটি এডুকেশন কাউন্সিল-সিইসির ভার্চুয়াল বৈঠকে একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে হান্টার কলেজ কি পদক্ষেপ নিল, সেটি জানাতে এ বিবৃতি।

‘ওই বৈঠকে একজন জেলা অভিভাবক ও হান্টার কলেজের কর্মকর্তার কাছ থেকে জঘন্য মন্তব্য শোনা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণবিধি ও বৈষম্যবিরোধী নীতির আওতায় আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি।’

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ‘তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্ত ফ্রিডম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।’

আইউইটনেস নিউজ জানায়, চলতি মাসের শুরুতে সিইসির একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে ঘটনার সূত্রপাত।

বৈঠকটির ভিডিওতে ফ্রিডম্যানকে বলতে শোনা যায়, ‘তারা(কৃষ্ণাঙ্গরা) এতটাই বোকা যে খারাপ স্কুলে পড়লে, সেটিও তারা বুঝতে পারে না।’

পরে মার্টিন লুথার কিং-এর একটি উক্তি তুলে ধরে ফ্রিডম্যান বলেন, 'তবে আপনি যদি একজন কৃষ্ণাঙ্গকে সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দেন, তাহলে তারা নিজেরাই বুঝতে পারবে কি করতে হবে, আপনাকে বারবার বলে দিতে হবে না।’

ভিডিওটি প্রকাশের পরপর ফ্রিডম্যানের বক্তব্য ঘিরে ক্রমেই বাড়তে থাকে শিক্ষক ও সচেতন মহলের সমালোচনা।

শিক্ষকদের দাবি, এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ফ্রিডম্যান শিক্ষার্থীদের বুদ্ধি ও জ্ঞানকে অবমাননা করেছেন।

ফ্রিডম্যানের দাবি, বিতর্কিত বক্তব্যটি বৈঠকের অংশ নয়। ওই সময় ভুলবশত মাইক্রোফোনটি আনমিউট হওয়ার ফলে এ বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

একই সঙ্গে বক্তব্যটি মানসিক কষ্টের কারণ হওয়ায় ক্ষমা চান ফ্রিডম্যান।

অভিযুক্তের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন নিউ ইয়র্ক সিটির স্কুল চ্যান্সেলর ও মেয়র জোরান মামদানি।

সেই সঙ্গে ফ্রিডম্যানকে শিক্ষক পদে আজীবন চাকুরিচ্যুত করার দাবি জানান সমালোচকদের অনেকে।