মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির পর ভোটের ফলাফলকে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের বিরুদ্ধে আমেরিকানদের প্রতিক্রিয়া বলে মন্তব্য করেছে ইরান সরকার।
ইরানের পার্লামেন্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক মাধ্যম এক্স পোস্টে বুধবার বলেন, নির্বাচনী ফলাফল জানান দেয় যে আমেরিকানরা মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট যুদ্ধের বিরুদ্ধে , তারা এজন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে শাস্তি দিয়েছে।
গালিবাফ বলেন,”নিজেদের বিবেক কিংবা জীবনযাত্রার ব্যয়, যে কারণেই হোক আমেরিকানরা যুদ্ধের বিরুদ্ধে ‘না’ বলেছেন এবং আমরা তাদের এই বার্তাকে সমর্থন জানাই।‘’
পরে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি আমেরিকার সরকার এরপরও আন্তর্জাতিক অর্থদাতা ও ব্ল্যাকমেলারদের স্বার্থে তার জনগণদের সঙ্গে প্রতারণা করে, তাহলে আমাদের পক্ষ থেকেও ‘না’ দুঃস্বপ্ন হয়ে ধরা দিবে।“
এদিকে, পরাজয়ের পর ট্রাম্পকে বিদ্রূপ করে এক্স পোস্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ভারতে অবস্থিত ইরান দূতাবাস।
ওই ভিডিওতে দেখা যায়, হোয়াইট হাউস থেকে চারজন লোক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে টেনে হিঁচড়ে বের করছেন। পরে তাকে আবর্জনা লেখা একটি ডাস্টবিনে ফেলে দেন।
তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ভাষ্য, ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণ যে দলের হাতেই থাকুক, ইরানের প্রতি তাদের বৈরী আচরণ অব্যাহত থাকবে।
খামেনি বলেন, ‘আমেরিকা তার আধিপত্যের অবসানকে অনেক দূরের বিষয় মনে করে কিন্তু আমরা দেখছি যে এটি নিকটবর্তী।‘
এদিকে, নির্বাচনে নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির জন্য নিজের ওপর দায় দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বরং পরাজয়ের কারণ হিসেবে ইরানকে দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দেশজুড়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর, ওইদিন সন্ধ্যা ৬টার পর থেকেই প্রকাশ পেতে থাকে বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল।
এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, এ নির্বাচনে সেনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৫৪টি আসন দখল করেছে ডেমোক্র্যাট পার্টি। অন্যদিকে রিপাবলিকান পার্টি পেয়েছে ৪৩টি আসন।
একইসঙ্গে, হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসে ২৩১টি আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। আর রিপাবলিকানরা পেয়েছেন ১৪৪টি আসন।
ফলে, পূর্ণ ফলাফল প্রকাশ পাওয়ার আগেই কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিজয় উদযাপন করছেন ডেমোক্র্যাটরা।