ইরান বর্তমানে চায়না থেকে সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল কেনার একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর কাছাকাছি অবস্থান করছে। এমনই তথ্য দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
চুক্তির বিষয়ে জানেন এমন ছয়জনের সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, এই আলোচনা প্রায় দুই বছর ধরে চলছে এবং পরিপক্ব অবস্থায় পৌঁছেছে, এমন এক সময় যখন অ্যামেরিকা অঞ্চলটিতে বিশাল নৌবহর মোতায়েন করছে এবং ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
চুক্তির মূল কথা ও মিসাইলের ক্ষমতা
চুক্তির অন্তর্গত হওয়া মিসাইলগুলো হলো চায়নার CM-302 সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল। এগুলো:
- প্রায় ২৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম
- নিম্ন উচ্চতায় ও উচ্চ গতিতে ভ্রমণ করে জাহাজভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে পারে
- কৌশলগতভাবে অঞ্চলটিতে ইরানের নৌযানে হামলার সক্ষমতা খুব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলবে
এ ধরনের ব্যবস্থা অ্যামেরিকার নৌবাহিনীর জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
তবে, সূত্রগুলো বলেছেন কোনো সরবরাহের তারিখ এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি এবং কতগুলো মিসাইল কেনা হবে, মূল্য কত হবে—এসব তথ্যও স্পষ্ট নয়।
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও পটভূমি
ইরান ও অ্যামেরিকার সম্পর্ক ইতোমধ্যেই অত্যন্ত টানাপোড়েনে। গত বছরের ইযরায়েল–ইরান ১২-দিনের সংক্ষিপ্ত যুদ্ধের পর আলোচনাগুলি দ্রুত গতি পেয়েছে, এবং চুক্তির বিষয়টি প্রধান সরকারি ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকেও উঠে এসেছে।
এই আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন ইরানের ডেপুটি ডিফেন্স মিনিস্টার মাসউদ ওরাঈ এবং অন্যান্য শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, যারা চায়নার বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাব
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সম্ভাব্য মিসাইল চুক্তি:
- ইরানের নৌসামরিক ক্ষমতা বাড়াবে, বিশেষত পারস্য উপসাগর ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে
- অ্যামেরিকার নৌবাহিনীকে বড় বিপদে ফেলতে পারে, বিশেষত যখন তারা ইতোমধ্যেই অঞ্চলে শক্তিশালী উপস্থিতি তৈরি করেছে
- চায়নার সঙ্গে ইরানের সামরিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে
- এই ঘাটতি চুক্তি সম্ভবত জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধেও যেতে পারে, কারণ ২০০৬ সালে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো আবার গত বছরই পুনঃপ্রয়োগ হয়েছিল কিন্তু পুনরায় কার্যকর পর্যায়ে এসেছে।
চায়নার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই আলোচনার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি, এবং অ্যামেরিকাও এটি সম্পর্কে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
সামগ্রিক বিশ্লেষণ
এটি কেবল একটি সামরিক সরঞ্জামের ক্রয়–বিক্রয়ের চুক্তি নয়, বরং এটি গভীর কৌশলগত সংকেত বহন করছে। ইরান অ্যামেরিকার সঙ্গে উত্তেজনার মাঝেই এর প্রতিরক্ষা সামর্থ্য বাড়াতে চায়, এবং চায়না এই পরিস্থিতিতে ইরানকে সমর্থন করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজের ভূমিকা আরও দৃঢ় করছে।
এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করবে—যা আন্তর্জাতিক কূটনীতির পাশাপাশি সামরিক পরিকল্পনাকেও প্রভাবিত করতে পারে।