


প্রকাশিত: মে ১২ ২০২৬, ১৬:৩০
.jpg&w=3840&q=100)
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প (বাঁ পাশে) ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি: আল জাজিরা
সেখানে ১৩ থেকে ১৫ মে তিনদিন অবস্থান করবেন ট্রাম্প। এ সময়ের ভিতর জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করবেন প্রেসিডেন্ট।
গত কয়েক মাস ধরে ট্রাম্পের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর তালিকায় বেশ নিচের অবস্থানে ছিল চীন-অ্যামেরিকা সম্পর্ক। অন্যদিকে তার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ, পশ্চিম গোলার্ধে সামরিক অভিযানসহ একাধিক অভ্যন্তরীণ বিষয়।
তবে আকস্মিক ট্রাম্পের মত পরিবর্তন ও চীন সফরের পরিকল্পনাই এখন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু । বিশ্বে চলমান উত্তেজনায়, দুই দেশের দুজন শক্তিশালী নেতা কী কী আলোচনা করবেন-তা সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে।
বৈঠকে আলোচনার জন্য নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ একাধিক ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন।
ইরান ইস্যুতে চীনের সহয়তা
গত সপ্তাহে বেইজিং সফরে গিয়েছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বিশ্লেষকদের মতে, আরাঘচিকে স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে অ্যামেরিকার কাছে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব জানান দিয়েছিল চীন।
তবে শক্তি প্রদর্শন করলেও যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হওয়া চীনও যায় যুদ্ধ অবসান। ইতোমধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ শুরু করেছে দেশটি।
এ অবস্থায় যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগে চীনের কাছে সহযোগিতা চাইতে পারেন ট্রাম্প। পাশাপাশি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে হরমুজ প্রণালিতে ইরান কর্তৃক জাহাজ হামলা সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে ভেটো না দিতে চীনের সঙ্গে আলোচনা করবে অ্যামেরিকা।
বিশ্লেষকরা বলছেন,ইরানের বিষয়ে সহযোগিতা করলেও বিনিময়ে বাণিজ্যিক সুবিধা নিতে পারে চীন।
শুল্কচাপ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক আলোচনা
রপ্তানিনির্ভর শক্তিশালী চীনের সঙ্গে অ্যামেরিকার বাণিজ্যযুদ্ধ নতুন কোনো ঘটনা নয়। গত বছর থেকে চীনের ওপর বারবার অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। এমনকি দেশটির বিভিন্ন পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘটনাও ঘটেছে।
প্রতিক্রিয়ায় চীন ট্রাম্পের প্রভাবাধীন বিভিন্ন স্টেই থেকে কৃষিপণ্য আমদানি কমিয়ে দেয়। যার ফলে ওই অঞ্চলের কৃষকদের ক্ষোভের মুখে পড়েন ট্রাম্প।
দেশটির ওপর অন্যায্য বাণিজ্যিক পদক্ষেপ বন্ধে এবার ট্রাম্পকে চাপ দিবে চীন।
তাইওয়ান প্রসঙ্গ
পার্শ্ববর্তী দেশ তাইওয়ানকে বরাবরই নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে এসেছেন শি জিনপিং। তবে দেশটির প্রসঙ্গে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড দিয়েছে মিশ্র বার্তা।
চীনের সঙ্গে দ্বন্দ চলমান এ দেশটির সঙ্গে গত ডিসেম্বরে ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্রচুক্তি ঘোষণা করে অ্যামেরিকা।
অন্যদিকে চীনের সঙ্গে বোঝাপড়ায় তাইওয়ানকে সহায়তা করবেন না বলেও বিভিন্ন সময় ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প।
চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাইওয়ান নিয়ে বিভিন্ন বিরোধ হবে এবার আলোচনার অন্যতম বিষয়।
অন্যদিকে অ্যামেরিকান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাইওয়ান যেন চীন বাদে ট্রাম্প-জিনপিংয়ের জন্য নতুন কোনো উত্তেজনার কারণ না হয় শুধু এটিই নিশ্চিত করবেন প্রেসিডেন্ট।
প্রযুক্তি নিয়ে স্নায়ু যুদ্ধের সমঝোতা
দেশের জন্য ভবিষ্যত শক্তি হিসেবে এআই শিল্প ও মানবসদৃশ রোবট তৈরিতে বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ করেছেন জিনপিং।
তবে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রোবটসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি নির্মাণে উন্নত মাইক্রোপ্রসেসর পেতে অনেক ক্ষেত্রে অ্যামেরিকান ওপর নির্ভশীল চীন।
এদিকে অ্যামেরিকার দাবি, দেশটির প্রযুক্তি নিজেদের স্বার্থে সরাসরি ব্যবহার কিংবা চুরি করছে চীন। অ্যামেরিকার সর্বাধুনিক মাইক্রোপ্রসেসর চীনে রপ্তানি করাও অনেক সময় বন্ধ করেছেন ট্রাম্প।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনে থাকা বিরল খনিজ পদার্থের বিনিময়ে প্রযুক্তি সরঞ্জাম পেতে ট্রাম্পের সঙ্গে সমঝোতা করবে চীন।
