সম্মেলনের সবচেয়ে প্রাধান্য পাওয়া আলোচ্য বিষয় ছিল গাযা পরিস্থিতি ও প্যালেস্টাইন সংকট। ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা গাযায় ইযরায়েলি সামরিক অভিযান, দখলদারিত্ব এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর নিন্দা জানান। সংকট মোকাবেলায় এবং ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত সহিংসতা বন্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইসলামিক রাষ্ট্রগুলোকে একটি ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে শুরু হয়েছে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা ওআইসি’র পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন। শনিবার শুরু হওয়া এই সম্মেলনে ওআইসির ৫৭টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি ছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনের সাইডলাইনে এক বৈঠকে সৌদি-ইয়েমেনে সংঘাত সমাধানে মধ্যস্ততার প্রস্তাব জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক সংকট এবং নিরাপত্তা হুমকির প্রেক্ষাপটে আয়োজিত এই শীর্ষ সম্মেলনকে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।
এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘সংবাদ ও সংহতি: শান্তি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণের দুই মূল স্তম্ভ’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তুর্কিয়ের কাছ থেকে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের আবর্তনশীল সভাপতির দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে স্বাগতিক ইরাক।
গাযা পরিস্থিতি ও প্যালেস্টাইন ইস্যু সম্মেলনের সবচেয়ে প্রাধান্য পাওয়া আলোচ্য বিষয় ছিল গাযা পরিস্থিতি ও প্যালেস্টাইন সংকট। ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা গাযায় ইযরায়েলি সামরিক অভিযান, দখলদারিত্ব এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর নিন্দা জানান। সংকট মোকাবেলায় এবং ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত সহিংসতা বন্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইসলামিক রাষ্ট্রগুলোকে একটি ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, বিশেষ করে হরমুয প্রণালীর নিরাপত্তাহীনতা এবং সার্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। এছাড়া আঞ্চলিক বিভিন্ন সংঘাত, যেমন—সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনার মতো জটিল ইস্যুগুলোর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। আলোচনার টেবিলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে সামরিক শক্তি প্রয়োগ নয়, বরং সংলাহই যেকোনো জটিল সংকট নিরসনের একমাত্র উপায়।
পার্শ্ববৈঠক ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা মূল অধিবেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে একাধিক পার্শ্ববৈঠকে অংশ নেন। এতে ইজিপ্ট, ইরানসহ অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার কৌশল নিয়ে যৌথ আলোচনা চালান।
এসময় ইজিপ্টের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরদ আহমেদ আব্দেলাত্তির সাথে এক বৈঠকে সৌদি-ইয়েমেনে সংঘাত নিরসনে মধ্যস্ততার প্রস্তাব দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইয়েমেন সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। তিনি জানান, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের এই সংঘাত নিরসনে যেকোনো ধরনের সহায়তা করতে ইরান প্রস্তুত।