ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির যেলেনস্কির সাবেক চিফ অব স্টাফ আন্দ্রি ইয়ারমাকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তে নেমেছে দেশটির দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সোমবার ১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের এক বিশাল মানি লন্ডারিং স্কিমে তাকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়।
কিয়িভের উপকণ্ঠে 'ডায়াস্টি' নামক একটি অভিজাত আবাসন প্রকল্পে অবৈধ অর্থ বিনিয়োগের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার আদালতে প্রবেশের সময় অভিযুক্ত ইয়ারমাক যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে নিজেকে মানসিকভাবে দৃঢ় বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন,’দেশ এখন যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমি পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি এবং ভালো আছি। আদালতের শুনানির পরই আমি এই বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করব।‘
ইউক্রেনে গত নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে তদন্তে একের পর এক নাম বেরিয়ে এলেও, ইয়ারমাকই এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি, যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হলো।
দেশটির ন্যাশনাল অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো স্পষ্ট জানিয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট যেলেনস্কি এই মুহূর্তে সরাসরি কোনো তদন্তের অধীনে নেই। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা যেলেনস্কির জন্য একটি ‘টাইম বম্ব।’
যদিও প্রেসিডেন্টের এখন আইনি সুরক্ষা আছে, কিন্তু তদন্তে যদি তার কোনো পরোক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে, তবে যুদ্ধের পর তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে এখন একদিকে চলছে রুশ বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ লড়াই, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম।