মূল্যস্ফীতি ও শুল্কনীতি নিয়ে ভোটারদের ক্ষোভ, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি প্রত্যাখ্যান
- 0


প্রকাশিত: নভেম্বর ৫ ২০২৬, ১৩:২১ হালনাগাদ: নভেম্বর ৫ ২০২৬, ১৪:২৫
ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, আমদানি শুল্কের প্রভাব এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ভোটারদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে। ব্যালটের মাধ্যমে ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতির প্রতি স্পষ্ট অনাস্থা জানিয়েছেন ভোটাররা। হাউজ, সেনেট ও গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এবং রিপাবলিকানদের বড় ধরনের পরাজয়কে ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও বিতর্কিত নীতিমালার বিরুদ্ধে ভোটারদের নেতিবাচক রায় হিসেবে দেখছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
এপি ভোটার জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, অধিকাংশ ভোটার মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নিজস্ব অর্থনৈতিক নীতিই মূল্যস্ফীতি বাড়িয়েছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ডেমোক্র্যাট নেতা জো বাইডেনের ওপর অর্থনৈতিক সংকটের দায় চাপানোর ট্রাম্পের প্রচেষ্টাও ভোটারদের মধ্যে প্রত্যাশিত গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।
গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক শুল্ক আরোপ এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পর আমেরিকায় পণ্যমূল্য ও জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে। এপি জরিপে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার মূল্যস্ফীতির জন্য ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিকে দায়ী করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে মিসিসিপি—বিভিন্ন স্টেটের ভোটারদের মধ্যেও আমদানি শুল্কের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা গেছে।
ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে ভোটারদের অনাস্থা
এপি'র জরিপে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার মূল্যস্ফীতির জন্য ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিকে দায়ী করেছেন। গত বছর ব্যাপক আমদানি শুল্ক আরোপ এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পর পণ্যমূল্য ও জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে। গত ১২ মাসে ভোক্তা মূল্য ৩.৭ শতাংশ বেড়েছে, যা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে ছিল ৩ শতাংশ। প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটার জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁদের প্রায় ৬০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন করেছেন।
প্রবৃদ্ধির মধ্যেও এআই নিয়ে উদ্বেগ
চলতি বছরে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকে ১০ শতাংশের বেশি উত্থান এবং ৪.২ শতাংশ বেকারত্বের হার সত্ত্বেও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। জরিপে প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমাজে ইতিবাচক প্রভাবের চেয়ে নেতিবাচক প্রভাব বেশি ফেলবে। কর্মসংস্থান সংকোচন ও সম্ভাব্য ফিনান্সিয়াল বাবল নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ রয়েছে।
সম্পদবৈষম্য ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ
মার্ক জাকারবার্গ, জেনসেন হুয়াং ও ইলন মাস্কের মতো প্রযুক্তি খাতের ধনকুবেরদের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা অর্থনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন নিয়ে বিতর্ক বাড়িয়েছে। প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার মনে করেন, আমেরিকার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ধনীদের বেশি সুবিধা দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটার সমাজতন্ত্রের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সরকারের অধিকতর ভূমিকা চান প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার।
আয়ের ভিত্তিতে ভোটারদের ভিন্ন অগ্রাধিকার
বার্ষিক ৫০ হাজার ডলারের কম আয়সম্পন্ন ভোটারদের প্রায় ৬০ শতাংশ জানিয়েছেন, দুই বছর আগের তুলনায় তাঁদের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। বিপরীতে, বার্ষিক ০.২ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয়সম্পন্ন পরিবারের প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটারের কাছে গণতন্ত্রের সুরক্ষা ছিল প্রধান নির্বাচনী ইস্যু। নিম্ন আয়ের ভোটারদের কাছে মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকট বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
ট্রাম্পের নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন
জরিপে প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার মনে করেন, ট্রাম্পের নীতিগত অগ্রাধিকার যথাযথ নয় এবং তিনি সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় যথেষ্ট ভূমিকা রাখছেন না। সরকারি কর্মী ছাঁটাই, সরকারি ব্যয় ব্যবস্থায় পরিবর্তন ও নতুন আমদানি শুল্ক নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল তাই ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও শাসননীতির প্রতি ভোটারদের অনাস্থার প্রতিফলন।
জরিপ: এপি ও ছয়টি প্রধান সংবাদমাধ্যমের অংশীদারত্বে এসএসআরএস পরিচালিত জরিপে ০.১ মিলিয়নের বেশি ভোটার অংশ নেন। আলাস্কায় ১৯ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর এবং অন্যান্য স্টেটে ২২ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। জরিপের নমুনাগত ত্রুটির সীমা প্লাস-মাইনাস ০.৬ শতাংশ পয়েন্ট।
