শি-ট্রাম্প বৈঠকে ‘ফুড ডিপ্লোমেসি’, ভোজসভায় সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত
0
শীর্ষ সংবাদ
টিবিএন ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ১৪ ২০২৬, ১৪:০৮ হালনাগাদ: মে ১৪ ২০২৬, ১৫:৫৮
চীনের রাষ্ট্রীয় ভোজে সাধারণত পরিবেশন করা হয় হুয়াইয়াং কুইজিন—শাংহাই ঘিরে গড়ে ওঠা একটি ঐতিহ্যবাহী রান্নাশৈলী, যা হালকা স্বাদ, সূক্ষ্ম পরিবেশন এবং মৌসুমি খাবারের জন্য পরিচিত। তবে এবার সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে যোগ করা হয়েছিল আন্তর্জাতিক স্পর্শও।
বেইজিংয়ে ডনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠক শুধু কূটনীতি বা বাণিজ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না—বার্তা ছিল খাবারের টেবিলেও। চীনর আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ভোজে পরিবেশিত খাবারের মেনু যেন দুই পরাশক্তির সম্পর্ক পুনর্গঠনের এক নরম কূটনৈতিক ভাষায় পরিণত হয়েছিল।
চীনের রাষ্ট্রীয় ভোজে সাধারণত পরিবেশন করা হয় হুয়াইয়াং কুইজিন—শাংহাই ঘিরে গড়ে ওঠা একটি ঐতিহ্যবাহী রান্নাশৈলী, যা হালকা স্বাদ, সূক্ষ্ম পরিবেশন এবং মৌসুমি খাবারের জন্য পরিচিত। তবে এবার সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে যোগ করা হয়েছিল আন্তর্জাতিক স্পর্শও।
বৈঠকে দুই নেতা যখন সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, তখন ভোজের মেনুতেও ছিল “কূটনৈতিক নমনীয়তা”। পরিবেশন করা হয় চীনের জাতীয় খাবার বেইজিং রোস্ট ডাক, আবার রাখা হয় বিফ রিবস—যা ট্রাম্পের ওয়েল-ডান স্টেক পছন্দের প্রতি ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন অনেকে।
শুধু মূল খাবার নয়, ডেজার্টেও ছিল আলাদা আয়োজন। অ্যামেরিকান অতিথিদের জন্য রাখা হয় তিরামিসু, আইসক্রিম, বিভিন্ন ফল এবং শঙ্খের আকৃতির বিশেষ পেস্ট্রি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল অতিথিদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সাংস্কৃতিক পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি স্পষ্ট বার্তা।
চীনে খাবার দীর্ঘদিন ধরেই কূটনৈতিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে। দেশটির আধুনিক ইতিহাসে দুর্ভিক্ষ ও দীর্ঘ রেশনিং ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা খাবারকে শুধু খাদ্য নয়, বরং মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অংশে পরিণত করেছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সফরে খাবারের মাধ্যমে বার্তা দেওয়া চীনা কূটনীতির পুরোনো কৌশল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও বিদেশি নেতাদের খাবার ঘিরে নানা ঘটনা ভাইরাল হয়েছে। ২০২৩ সালে সাবেক অ্যামেরিকার ট্রেজারি সেক্রেটারি জ্যানেট ইয়েলেন বেইজিংয়ের এক রেস্তোরাঁয় “ম্যাজিক মাশরুম” খাওয়ার কথা বলে আলোচনায় আসেন। আবার ২০১১ সালে তখনকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সাধারণ মানুষের জনপ্রিয় এক খাবারের দোকানে গিয়ে খেয়েছিলেন।
চীন এর আগেও বিদেশি নেতাদের নামে খাবারের নামকরণ করেছে। ১৯৭১ সালে হেনরি কিসিঞ্জারের গোপন সফর উপলক্ষে বিশেষ চিকেন রেসিপি তৈরি করা হয়েছিল। পরে সেই খাবার স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোতেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হুয়াইয়াং কুইজিনকে কূটনৈতিক ভোজের জন্য আদর্শ ধরা হয় কারণ এর স্বাদ তুলনামূলকভাবে “নিরাপদ” এবং আন্তর্জাতিক অতিথিদের জন্য সহজে গ্রহণযোগ্য। এতে অতিরিক্ত ঝাল বা তীব্র মশলা ব্যবহার করা হয় না।
এই রান্নাশৈলীর জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে রয়েছে “লায়ন্স হেড” পোর্ক মিটবল, ইয়াংজু ফ্রাইড রাইস, মিষ্টি-টক সসে তৈরি স্কুইরেল ফিশ এবং সূক্ষ্মভাবে কাটা টোফু দিয়ে তৈরি ওয়েনসি টোফু।
শাংহাইভিত্তিক খাদ্যবিশ্লেষক ক্রিস্টোফার স্টি ক্যাভিশের ভাষায়, “এটি ওয়াশিংটনের কোনো রাষ্ট্রীয় ভোজে চিকেন পরিবেশনের মতো—কেউ এতে বিরক্ত হবে না, আবার খুব অচেনাও মনে হবে না।”