কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযোগ গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও হাভানার মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
চায়না সফর শেষে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না। বিচার বিভাগই এ বিষয়ে কথা বলুক। তবে কিউবার সাহায্য প্রয়োজন। দেশটি স্পষ্টভাবেই অবনতির দিকে যাচ্ছে।”
অ্যামেরিকান কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ৯৪ বছর বয়সি রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ১৯৯৬ সালের একটি বিতর্কিত ঘটনা। ওই ঘটনায় মানবিক সহায়তাবিষয়ক সংগঠন “ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ” পরিচালিত কয়েকটি উড়োজাহাজ ভূপাতিত করা হয়, যাতে প্রাণহানি ঘটে।
অ্যামেরিকার সংবাদমাধ্যম সিবিএস জানিয়েছে, নতুন এই তদন্ত সেই ঘটনাকেই ঘিরে এগোচ্ছে।
এদিকে কিউবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। একইভাবে জাস্টিস ডিপার্টমেন্টও বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওয়াশিংটন ও হাভানার মধ্যে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমান কিউবান সরকারকে “দুর্নীতিগ্রস্ত” এবং “অযোগ্য” বলে বর্ণনা করছে। একই সঙ্গে দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে সরকার পরিবর্তনের চাপও বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন।
বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়ে অ্যামেরিকা কার্যত কিউবার ওপর অবরোধমূলক চাপ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতির ফলে দেশটিতে বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হয়েছে এবং অর্থনীতিতেও বড় ধাক্কা লেগেছে।
জানা গেছে, ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি অফিস কিউবার শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ফৌজদারি অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।
যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন হয়নি, তবুও রাউল কাস্ত্রোর নাম সামনে আসায় বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে নতুন মাত্রা পেয়েছে।
রাউল কাস্ত্রো দীর্ঘদিন কিউবার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এবং তিনি কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই।