বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসছে। উত্তরার বাসা থেকে বের হওয়ার পর টঙ্গীর তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার, বন্ধুর সঙ্গে রেস্টুরেন্টে অবস্থান, সিসিটিভি ফুটেজ এবং মাজার বস্তি এলাকা থেকে মোটরসাইকেল উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
এ ঘটনায় তাহসিফের বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ৩১ অক্টোবর ঢাকার আদালত তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাতে উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে তাহসিফ, দীপ ও এক তরুণীকে একসঙ্গে দেখা যায়। সিসিটিভি ফুটেজে তাঁদের সেখানে প্রবেশ এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর বের হতে দেখা গেছে। পরে ওই তরুণীকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে তাহসিফ ও দীপ টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যান বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেছেন, টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় পুলিশের পোশাক পরা দুই ব্যক্তিকে দেখে তাঁরা দুজন আলাদা দিকে পালিয়ে যান। এ সময় তাহসিফ নদে ঝাঁপ দেন বলে তাঁর বক্তব্য। তবে ওই দুই ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে পুলিশ সদস্য ছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাজার বস্তি এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পিবিআই। এটি তাহসিফের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের দায়ের করা হত্যা মামলায় দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড শুনানিতে তাহসিফের অতীতের একটি রাজনৈতিক ঘটনার সম্ভাব্য যোগসূত্রের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রমাণিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, কথিত ধাওয়াকারীদের পরিচয় এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।