ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে হবে, আমেরিকার সঙ্গে যৌথ পদক্ষেপের দাবি নেতানিয়াহুর
- 0


প্রকাশিত: অক্টোবর ২২ ২০২৬, ১৩:৩৬ হালনাগাদ: অক্টোবর ২২ ২০২৬, ১৪:৩১
ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোই দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সৃষ্ট হুমকি দূর করার একমাত্র উপায় বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু। বুধবার (২১ অক্টোবর) ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) কর্মকর্তাদের এক সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তাঁর বাবার পথ অনুসরণ করে আবারও ‘মৃত্যুর অস্ত্র’ তৈরির চেষ্টা করছেন। এ পরিস্থিতিতে ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে আইডিএফ, গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এবং নিরাপত্তা বিভাগগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, ইরানের বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত ইসরাইল অস্তিত্বগত হুমকির মুখে থাকবে।
নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের শাসনব্যবস্থাকে স্থায়ীভাবে উৎখাত করাই এই হুমকি দূর করার একমাত্র পথ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও তাঁকে বলেছেন, আমেরিকা ‘কাজটি শেষ করতে প্রস্তুত’, তবে তা করতে হবে ইসরাইলের সহযোগিতায়।
তবে ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কোনো হামলা চালানো হবে না। ফলে ইরান নিয়ে নেতানিয়াহুর কঠোর অবস্থান এবং ওয়াশিংটনের প্রকাশ্য বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাতে যৌথ অভিযান চালানোর কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে—এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অভিযোগ
ইসরাইলি কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে। বুধবারের বক্তব্যে নেতানিয়াহু সেই অভিযোগই আবার সামনে আনেন। তিনি দাবি করেন, মোজতবা খামেনি তাঁর বাবার পথ অনুসরণ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় এগিয়ে নিতে চাইছেন।
তবে নেতানিয়াহুর বক্তব্যে উত্থাপিত অভিযোগের সমর্থনে ওই অনুষ্ঠানে নতুন কোনো প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি। তাই ইরান সত্যিই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা পুনরায় শুরু করেছে কি না, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্যকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
আমেরিকার সঙ্গে সামরিক সমন্বয়
ইরান নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার আগে চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ ইসরাইলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে আমেরিকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে বৈঠক করেন নেতানিয়াহু। তাঁর আন্তর্জাতিক মুখপাত্র ডরন স্পিলম্যান জানান, মধ্যপ্রাচ্যের হুমকি মোকাবিলায় দুই দেশের আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বৈঠকের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিনি। ফলে এই আলোচনা থেকে ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাতের বিষয়ে কোনো যৌথ সামরিক সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
ইসরাইলের নির্বাচনের আগে কঠোর অবস্থান
ইরান নিয়ে নেতানিয়াহুর বক্তব্য এসেছে ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে। আগামী মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, দেশটিতে নির্বাচন হওয়ার কথা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা এবং তার পর গাযায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের পর এই নির্বাচন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের ওপর জনসমর্থনের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নির্বাচনের আগে ইরানকে অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে তুলে ধরে নেতানিয়াহু নিরাপত্তা ও সামরিক পদক্ষেপকে তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে রেখেছেন। তবে তাঁর ঘোষণার পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো অভিযান শুরু হবে কি না, কিংবা আমেরিকা সরাসরি এতে অংশ নেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ইরানের শাসনব্যবস্থার পতনকে আনুষ্ঠানিক লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ওয়াশিংটন এই অবস্থানের প্রতি কীভাবে সাড়া দেয় এবং নেতানিয়াহুর বক্তব্য বাস্তব সামরিক পদক্ষেপে রূপ নেয় কি না।
