দুই দিনের সহিংস বিক্ষোভের পর পদত্যাগ করলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। মঙ্গলবার দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গতকাল সোমবার থেকে নেপালে বিক্ষোভ চলছে। কারফিউ উপেক্ষা করে আজও সকাল থেকে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নামেন। পুলিশের গুলিতে গতকাল ১৯ জন নিহত ও ৪০০-এরও বেশি আহতের ঘটনায় বিক্ষোভকারীদের তোপের মুখে পড়েন প্রধানমন্ত্রী।
প্রকাশিত ভিডিওতে কেপি শর্মা ওলিকে সামরিক হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডু ছাড়তে দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রী অলি তার পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন যে, তিনি রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে পদত্যাগ করেছেন। তবে, নেপালে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলেও সরকার পতন হবে না। কারণ প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পাউদেল এখন সরকারের প্রধান।
তবে, সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট পাউদেলও পদত্যাগ করতে পারেন এবং সরকার সম্পূর্ণভাবে উৎখাত হতে পারে।
বিক্ষোভকারীদের বেশির ভাগই তরুণ বা জেন-জি প্রজন্মের। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ অন্তত সাতটি শহরে এদিন ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। বর্তমানে, নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি একটি অনিশ্চিতার মধ্যে রয়েছে।
সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং নেপালে নতুন সরকার গঠিত হতে পারে। যদি এমনটি ঘটে, তাহলে এটি ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কা এবং ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ঘটনার মতো হবে, যেখানে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের কারণে মহিন্দ রাজাপাকসে এবং শেখ হাসিনার সরকার পতন ঘটে।
তবে এখনো পর্যন্ত, নেপালের সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়নি এবং বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবি আদায়ে সোচ্চার রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী ওলির পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিক্ষোভকারীরা সংসদসহ সরকারি ভবনগুলো দখলে নেয় এবং প্রধানমন্ত্রী ওলি ও প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পাউদেলের ব্যক্তিগত বাসভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিক্ষোভকারীরা নেপালি কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রী ও রাজনীতিকের বাড়িঘরেও হামলা ও ভাঙচুর চালান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে নেপালের সেনাবাহিনী।