ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসে কর্মী সংকট, ঝুঁকিতে পূর্বাভাস কার্যক্রম

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ৪ ২০২৫, ১৫:৫৩ হালনাগাদ: মার্চ ২ ২০২৬, ১২:০৬

ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসে কর্মী। ফাইল ছবি

ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসে কর্মী। ফাইল ছবি

  • 0

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে এই মুহুর্তে দেশে ওয়েদার সার্ভিসের প্রায় অর্ধেক সংখ্যক কার্যালয়ের প্রতিটিতে ২০ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে।

ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের ১২২টি পূর্বাভাস কেন্দ্রের অর্ধেকই চলছে ৮০ শতাংশ জনবল দিয়ে। এর ফলে এপি’র এক প্রতিবেদনে সঠিক ও দ্রুত পূর্বাভাস কার্যক্রম মারাত্মক ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গবেষক সেথ বোরেন্সটিন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দায়িত্ব নেয়ার পর বিভিন্ন সংস্থার কর্মী ছাঁটাইয়ের অংশ হিসেবে ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসেও জনবল কমিয়েছেন। এর ফলে আসন্ন হারিকেইন মৌসুমে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের জীবন ও সম্পদ মারাত্মক হুমকিতে পড়বে বলে দাবি করেছেন সেথ বোরেন্সটিন। অবিলম্বে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ দিলেই এই সংকট কাটানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

এপি’র বিজ্ঞান বিষয়ক লেখক সেথ বোরেন্সটিন ওই প্রতিবেদনটি তৈরি করেন। পিবিএস নিউয আওয়ারকে এই গবেষক বলেন, এই কর্মী সংকট আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়ার ক্ষেত্রে মারাত্মক সংকট তৈরি হতে পারে। তার আশংকা, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগের মতো সঠিক এবং দ্রুত পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব নাও হতে পারে।

একই সাথে কোন স্টেইটের বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতি তৈরি হলে সবদিকে নজর দেয়া বর্তমান কর্মীদের জন্য অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানান এই গবেষক।

সেথ বোরেন্সটিন আরও বলেন, আবহাওয়া পূর্বাভাসের জন্য এখনও বেলুনের সহায়তা নেয়া হয় যা অনেক পুরানো হলেও, কার্যকর প্রযুক্তি। দিনে প্রতিটি আবহাওয়া কেন্দ্র থেকে দুই দফায় একশটি করে বেলুন ওড়ানো হয়। চলমান কর্মী সংকটের ফলে অনেক কেন্দ্র পর্যাপ্ত সংখ্যক বেলুন ওড়াতে ব্যর্থ হতে পারে বলে তার শঙ্কা।

এক মাস বা তারও কম সময়ের মধ্যে দেশে হ্যারিকেইন মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের কর্মক্ষমতা শতভাগ না হলে এই সময়ে জানমালের জন্য ব্যাপক হুমকি তৈরি হতে পারে বলে জানান বোরেন্সটিন।

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের ফলে, অ্যামেরিকায় আঘাত হানা অনেক হ্যারিকেইন অতি অল্প সময়ে শক্তি সঞ্চয় করে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এই সময়টায় হ্যারিকেইনের গতিপথের দ্রুত এবং সঠিক পূর্বাভাসই পারে মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করতে।

ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস শুধু ঝড়ের ক্ষেত্রে না, দাবানলে প্রাণহানি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে দাবানল নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত ফায়ার ফাইটারদের প্রাণ রক্ষায় ওয়েদার সার্ভিসের পূর্বাভাস অত্যন্ত কার্যকর।

ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণের মানুষের প্রাণহানির হুমকি এখন অনেকটাই বেড়ে যাবে।

দেশের মূল ভূখণ্ড ছাড়াও পুয়ের্তো রিকো ও গুয়ামে ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের ১২২টি আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র রয়েছে যার অন্তত ৬০টিই ৮০ শতাংশ জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। দেশের মানুষের নিরাপত্তায় এই কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক জনবল নিয়োগের কোন বিকল্প নেই বলে মনে করেন গবেষক সেথ বোরেন্সটিন।