পাকিস্তানের করাচিতে অবস্থিত ইউএস কনস্যুলেটে হামলার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন।ওই ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, রোববারের সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আইউইটনেস নিউজ জানায়, আ্যমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবরে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়।
এর জেরে করাচিতে হাজারো শিয়া বিক্ষোভকারী ইউএস কনস্যুলেটের দিকে মিছিল নিয়ে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাঁধে।
করাচির প্রধান সরকারি হাসপাতালের পুলিশ সার্জন সুমাইয়া সৈয়দ তারিক জানান, সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে আনা হলে তাঁদের মধ্যে কয়েকজন মারা যান।
প্রথমে ছয়জনের মরদেহ আনা হয়, পরে গুরুতর আহত আরও চারজনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় দশজনে।
এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেট ভবনের কাছে পৌঁছে ভাঙচুর চালায় এবং একটি পুলিশ পোস্টে আগুন ধরিয়ে দেয়। কনস্যুলেট ভবনের জানালাও ভাঙা হয়েছে। তবে কনস্যুলেট ভবনে আগুন লাগার খবর সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে উত্তরের গিলগিত-বালতিস্তান অঞ্চলেও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বিক্ষোভকারীরা জাতিসংঘের একটি কার্যালয় ও সরকারি স্থাপনায় হামলা চালায়।
পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত দুই বিক্ষোভকারী নিহত হন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এক বিবৃতিতে খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে ইরানের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয় এবং শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশ করে।
ইসলামাবাদে ইউএস দূতাবাসের দিকে বিক্ষোভকারীরা অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে।
লাহোর ও পেশোয়ারেও ইউএস কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর সামনে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।