রাজধানী ঢাকার উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক সামরিক পাইলট ও কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিখোঁজের একদিন পর গত বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত তাহসিফ কে এম এনায়েতুল করিম হেলালের সন্তান। তিনি পরিবারের সঙ্গে ঢাকার উত্তরায় বসবাস করতেন।
তাহসিফের বাবা হেলাল জানান, মঙ্গলবার (২৭) পরিবারের জন্য কেনাকাটা শেষে সন্ধ্যায় দীপ নামের এক জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। রাতে মাকে ‘আম্মু আমি আসছি’ লিখে মেসেজ পাঠালেও তিনি আর ঘরে ফেরেননি।
উত্তরার বাসা থেকে সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পরিচিত ছোট ভাই দীপের সঙ্গে দেখা করতে বাসার গ্যারেজের নিচে নামেন তাহসিফ। কিছুক্ষণ কথা বলার পর সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে দুজন মোটরসাইকেলে করে বাসা থেকে বেরিয়ে যান।
এ ঘটনায় দীপ জানান , বাসা থেকে বের হয়ে প্রথমে শপিং মলে যান তারা। এরপর একটি রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খান। রাত সাড়ে ১১টার পর দীপের থেকে নিজের কাজের জন্য বিদায় নেন তাহসিফ। যাবার সময় নিজের বাইকেই ছিলেন তিনি।
বাবা হেলাল জানান, সর্বশেষ তাহসিফ তার মাকে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে একটি মেসেজ পাঠিয়েছিলেন। এর পর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরবর্তীতে ভোর সোয়া ৫টার দিকে পুলিশের কাছ থেকে ছেলের মরদেহ পাওয়ার খবর পান তারা।
এদিকে মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদনে জানানো হয়, মৃত ব্যক্তির উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। মাথার চুল কালো, মুখে ছোট ছোট কালো দাড়ি ও গোঁফ ছিল। চোখ ও মুখ বন্ধ ছিল। নাক দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা গেছে। তার দুই হাত মাথার সামনে বাঁকানো ও মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় ছিল। পেট ফোলা ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুক, পেট, পিঠ, দুই পা ও যৌনাঙ্গ স্বাভাবিক ছিল। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। উদ্ধারের সময় তার পরনে কালো রঙের ফুলহাতা কাবলি শার্ট ও সাদা রঙের ট্রাউজার ছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
বিমানবাহিনীর চাকরি ছাড়া নিয়ে প্রশ্ন
অপমৃত্যুর ঘটনার পর তাহসিফের চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঢাকার আদমজী ক্যান্টমেন্ট কলেজে পড়াশোনার পর বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির ৭৯ তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সমমানের জয়েন্ট সার্ভিস কোর্স সম্পন্ন করে বিমানবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি ও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রিফাত আশরাফীকে বিমানবাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অবসর দেওয়া হয়েছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের অবসরের সঙ্গে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতার কোনো সম্পর্ক নেই। এর আগে একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওই দুই কর্মকর্তাকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর দাবি করা হয়েছিল। আইএসপিআর সেই দাবিকে বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছিল।
শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও নিয়েও আলোচনায়
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। ভিডিও ধারণকারী হিসেবে তাহসিফের নাম তখন আলোচনায় আসে। তবে তাহসিফ ও তার পরিবারের দাবি ছিল, ভিডিওটি তার ধারণ করা নয়। তাহসিফের স্বজনরা জানান, ওই ভিডিও প্রকাশের পর থেকে তাহসিফকে নিয়ে নানা নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হত।