ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কর্মসূচি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য ‘বড় ধরনের মিথ্যা’ বলে অভিযোগ জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সিবিএস নিউজ জানায়, অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্টের বার্ষিক ভাষণ তথা স্টেট অব দ্য ইউনিয়নে মঙ্গলবার রাতে ট্রাম্পের এক বক্তব্যের পর এ অভিযোগ জানানো হয়।
কংগ্রেসে ভাষণ চলার একপর্যায়ে ট্রাম্প দাবি করেন, গত জুন মাসে অ্যামেরিকা কর্তৃক ইরানের যাবতীয় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কর্মসূচি ধ্বংস করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও দেশটি নতুন করে অস্ত্র তৈরির কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘তাদেরকে পুনরায় অস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা না করতে সতর্ক করা হয়েছিল, বিশেষত পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র কিন্তু তারা আবার শুরু করেছে।‘
পরে প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, ‘ইরানকে কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।’
ট্রাম্পের দাবি, অ্যামেরিকায় হামলা করা সম্ভব এমন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করছে ইরান।
ওই সময় ইরানকে সন্ত্রাসবাদের এক নম্বর পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও অভিহিত করেন প্রেসিডেন্ট।
একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ইতোমধ্যে সরকারি বাহিনী কর্তৃক ৩হাজার ২০০জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, তেহরান কর্মকর্তাদের দাবি করা সংখ্যা থেকে কয়েক গুণ বেশি।
যেভাবে প্রতিক্রিয়া জানাল ইরান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বুধবার বেশ কড়া ভাষায় ট্রাম্পের সমালোচনা করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ওই পোস্টে ট্রাম্পকে সরাসরি পেশাদার মিথ্যাবাদী অভিহিত করে বিবৃতি দেয় কর্তৃপক্ষ।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পেশাদার মিথ্যাবাদীরা বরাবরই সত্যের ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করতে পারদর্শী।’
কর্তৃপক্ষ দাবি করে, ট্রাম্প বারবার পারমাণবিক অস্ত্র, ব্যালস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি ও নিহতদের সংখ্যা নিয়ে মিথ্যাচার করে আসছে।
পূর্বে একাধিকবার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান। তবে ট্রাম্পও একই অভিযোগ অব্যাহত রেখেছেন।
এ প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘’একটি মিথ্যা এতবার পুনরাবৃত্তি করো যতক্ষণ না তা সত্যে পরিণত হয়’- নাৎসি নেতা জোসেফ গ্যোবেলস প্রবর্তিত এই প্রচারমূলক নীতি এখন পদ্ধতিগতভাবে প্রয়োগ করছে অ্যামেরিকান প্রশাসন ও তাদের যুদ্ধ থেকে লাভবান গোষ্ঠীগুলো।’’